মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভয়াবহ হামলা, তিন দেশে ২২০ মার্কিন সেনা হতাহত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভয়াবহ হামলা, তিন দেশে ২২০ মার্কিন সেনা হতাহত ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২৩:০৬, ৭ মার্চ ২০২৬

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এক সপ্তাহ পার হলেও এই যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; বরং দুই পক্ষই হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে।

এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে এবার প্রথমবারের মতো ঘোষণা দিয়ে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে তেহরান।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানের ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো হামলায় ২২০ জন মার্কিন সেনা ও কমান্ডার নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান। এমন তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।

শনিবার (৭ মার্চ) রাতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রিত খতম আল-আনবিয়ার সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি এসব তথ্য জানান।

তার দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা এয়ার বেসে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

একই সময়ে সৌদি আরবের আল-খার্জ এলাকায় অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজেও আঘাত হানা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আইআরজিসির এই কর্মকর্তা।

তবে এসব দাবির বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয় বলে দাবি করা হয়।

একই সঙ্গে ইরানের সেনাবাহিনীর কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারও নিহত হন। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরান।

টানা আটদিন ধরে চলতে থাকা এই হামলা ও পাল্টা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য কার্যত একটি বড় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের ওপর আরও ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৭ মার্চ) রাতেই ইরানের নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে ট্রাম্পের এই হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক স্থাপনা খুঁজে বের করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিস্তারের এবং তাদের সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছে।

এ কারণে ইরান এখন আমেরিকার অঞ্চল, সামরিক বাহিনী এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করবে। যেসব স্থাপনা এখনো ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু তালিকায় নেই, সেগুলোও তালিকাভুক্ত করে হামলা চালানো হবে।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামনে ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement