সৎবাবার হাতে খুন, দায় এড়াতে সাজানো হলো ‘অপহরণের নাটক

সৎবাবার হাতে খুন, দায় এড়াতে সাজানো হলো ‘অপহরণের নাটক ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২১:২৩, ৭ মার্চ ২০২৬

নরসিংদীর মাধবদীতে আলোচিত আমেনা আক্তার (১৫) হত্যা মামলায় তার সৎবাবা আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

শনিবার (৭ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মাঝামাঝি একটি সরিষাক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় অভিযোগ উঠেছিল, ধর্ষণের বিচার দাবি করায় ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে তদন্তে এখন পুলিশ বলছে, কিশোরীর সৎবাবাই তাকে হত্যা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আশরাফ আলী বলেছেন যে, কিশোরীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময়ে অপমানিত বোধ করায় তিনি একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। হত্যার দায় অন্যদের ওপর চাপানোর উদ্দেশ্যে তিনি অপহরণের নাটকও সাজিয়েছিলেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। হত্যার প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে আসামি হযরত আলীর বাড়িতে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বিচার চাইতে তারা মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যান। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি সরিষাক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই কিশোরীর মা ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালত তাদের প্রত্যেকের আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদে দলবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলেও হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে গত শুক্রবার (৬ মার্চ) কিশোরীর সৎবাবা আশরাফ আলীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে তিনি পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন।

সৎবাবা আশরাফ আলীর জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী কিশোরীকে নিয়ে এক সহকর্মীর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে নির্জন একটি সরিষাক্ষেতের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে তার নিজের ওড়না দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ধরেন। পরে ওই সরিষাক্ষেতেই শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন এবং মরদেহ সেখানেই ফেলে রেখে বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে অপহরণের নাটক সাজান তিনি।

পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক আরও জানান, এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যার অভিযোগে একজন, ধর্ষণের অভিযোগে চারজন এবং অবৈধ সালিশে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সৎবাবা আশরাফ আলী, নূর মোহাম্মদ নূরা ও হযরত আলী আদালতে জবানবন্দি দিয়ে দায় স্বীকার করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরা হলেন— নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), মো. গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), ইছহাক ওরফে ইছা (৪০) এবং মো. আইয়ুব (৩০)। তবে আবু তাহের নামের আরেক আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্লেখ্য, মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সহসভাপতি।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement