মেয়ের উত্ত্যক্তির প্রতিবাদে বখাটেদের হাতে প্রাণ গেল বাবার

মেয়ের উত্ত্যক্তির প্রতিবাদে বখাটেদের হাতে প্রাণ গেল বাবার ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৬:২২, ৯ মার্চ ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় মো. জাকির হোসেন মিয়াজী (৪৫) নামে এক কৃষককে বখাটে যুবকদের নির্মম হাতে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আহত অবস্থায় তাকে ১৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়, কিন্তু রোববার (৮ মার্চ) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত জাকির হোসেন ছিলেন পাঁচ সন্তানের পিতা, তার তিন মেয়ে ও দুই ছেলে। তিনি কৃষিকাজের মাধ্যমে পরিবার চলোতেন।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, জাকির হোসেনের দ্বিতীয় মেয়ে সাকিবা আক্তার (১৫) নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুলে যাতায়াতের পথে তাকে কয়েকজন যুবক উত্ত্যক্ত করত। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে নাছির হোসেন মিয়াজির ছেলে ফাইম মিয়াজী (২৪), আইনুল কবির ফটিকের ছেলে মো. সাফিন (২৩), নওদোনা গ্রামের মিজান বেপারীর ছেলে রিফাত বেপারী, মহসিন শিকদারের ছেলে রিয়াদ শিকদার এবং আরও ১০–১৫ জন বখাটে।

জাকির হোসেন এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর অভিযোগ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজারে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত রোববার তিনি মারা যান। নিহতের ছোট ভাই হোসেন মিয়াজি চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

নিহতের মেয়ে সাকিবা আক্তার জানিয়েছেন, স্কুলে যাতায়াতের সময় কয়েকজন ছেলে তাকে উত্ত্যক্ত করত এবং বিষয়টি জানালে তার বাবা স্কুলে অভিযোগ করেন। এর জের ধরেই তারা তার বাবাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা বলেন, তাদের বাবাকে অন্যায়ভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে এবং তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাইছে।

নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানিয়েছেন, তার স্বামী একজন কৃষক মানুষ ছিলেন। মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে মারা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন ছোট ছোট সন্তান নিয়ে তিনি কীভাবে বাঁচবেন, এবং স্বামীর হত্যার সঠিক বিচার চাচ্ছেন।

নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল্ল্যা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাকে কেউ অবহিত করেনি। মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, আহত জাকির হোসেনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement