নিখোঁজ স্বজনদের আহাজারিতে ভারী পদ্মার তীর
Published : ০৩:৫২, ২৬ মার্চ ২০২৬
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীর জুড়ে ভারী হয়ে উঠেছে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনদের আহাজারি। বাসটি কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলছিল এবং এতে প্রায় ৫৬ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর সাতজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠে আসলেও বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন। ইতোমধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে এক যাত্রী আব্দুল আজিজুল তার স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠেছেন। তিনি জানান, আগামী ২৯ মার্চ ঢাকায় কর্মস্থলে ফেরার জন্য তিনি একাই বাসে উঠতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার স্ত্রী তাকে ছাড়া যেতে রাজি হননি। সেই মুহূর্তের ভালোবাসাই আজ তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখে পরিণত হয়েছে। আব্দুল আজিজুল কোনোরকমে সাঁতরে তীরে উঠলেও, স্ত্রী ও সন্তানকে চোখের সামনে হারিয়ে তিনি একেবারে ভেঙে পড়েছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং মুহূর্তের মধ্যে বাসটি উল্টে নদীতে তলিয়ে যায়। এর পর থেকে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা নদীর তীরে ভিড় জমিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির উদ্ধারকাজে পাটুরিয়া এবং আরিচা ঘাট থেকে বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় বাসটি শনাক্ত করে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে, তবে অন্ধকার এবং পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।































