সংগ্রাম, কারাবরণ ও রাজনৈতিক জীবনের অবসান: মায়ের কবরের পাশে দাফন তোফায়েল আহমেদ

সংগ্রাম, কারাবরণ ও রাজনৈতিক জীবনের অবসান: মায়ের কবরের পাশে দাফন তোফায়েল আহমেদ তোফায়েল আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০২:৫০, ৩ জুন ২০২৬

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের অন্যতম প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদকে নিজ জেলা ভোলার পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর মঙ্গলবার (২ জুন) হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন। জানাজার আগে রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

এর আগে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে তার মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার ভোলা হেলিপ্যাডে পৌঁছায়। পরে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সযোগে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেওয়া হয়। জানাজা শেষে মরদেহ ভোলা সদর উপজেলার কোড়ালিয়া গ্রামে পারিবারিক বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

তোফায়েল আহমেদ সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

তিনি এক কন্যাসহ অসংখ্য রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি ছাত্রলীগের নেতৃত্বের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি লাভ করেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেন।

স্বাধীনতার পর তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শিল্প, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তোফায়েল আহমেদের। সামরিক শাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে তিনি কারাবন্দি ছিলেন। রাজনৈতিক আদর্শ ও দলীয় কর্মকাণ্ডের কারণে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও সক্রিয় রাজনীতি থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন হননি।

তার মৃত্যুতে ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজা ও দাফানে অংশ নেওয়া মানুষ তাকে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক এবং জননেতা হিসেবে স্মরণ করেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement