সরিয়ে নেওয়া হলো খানজাহান আলী মাজার সংলগ্ন দীঘির একমাত্র কুমির

সরিয়ে নেওয়া হলো খানজাহান আলী মাজার সংলগ্ন দীঘির একমাত্র কুমির বাগেরহাটের হজরত খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

Published : ১৫:৫৩, ৩ জুন ২০২৬

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটিকে জননিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বন বিভাগ, প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহায়তায় কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

সকাল থেকেই বন বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাজার এলাকায় অবস্থান নেন। বেলা ১১টার দিকে দীঘির পূর্বপাড়ে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে কুমির বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বেলা ১২টার দিকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে কুমিরটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর দড়ি দিয়ে বেঁধে নিরাপদে তীরে তোলা হয়। পরে চোখ ও পা বেঁধে বিশেষ ব্যবস্থায় বন বিভাগের গাড়িতে তুলে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

গত সোমবার দীঘিতে গোসল করতে নামা এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় কুমিরটি আলোচনায় আসে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও কুমিরটির আক্রমণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় জননিরাপত্তার স্বার্থে কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দীঘির পাড়ের বাসিন্দা কুলসুম বেহম বলেন, “আগের কুমিরগুলো শান্ত স্বভাবের ছিল। কিন্তু এই কুমিরটিকে আমরা ভয় পেতাম। এর কারণে দীঘিতে নামতেও সাহস পেতাম না।”

মাজার এলাকায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী আরিফ শেখ বলেন, “খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এই দীঘি ও এর কুমির। আজ কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার ফলে ঐতিহ্যের একটি অংশ যেন হারিয়ে গেল।”

কুমির বিশেষজ্ঞ আজাদ কবির জানান, উদ্ধার করা নারী কুমিরটির ওজন প্রায় ৬০০ কেজি। বর্তমানে এটিকে খুলনার উদ্ধার কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন শেষে পরবর্তীতে প্রাণীটির ভবিষ্যৎ আবাসস্থল নির্ধারণ করা হবে।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, “জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত এটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

উল্লেখ্য, হজরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দীঘির কুমিরগুলো দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের অন্যতম ঐতিহাসিক ও পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement