সুষ্ঠু নির্বাচনের স্থায়ী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন : সিইসি

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্থায়ী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন : সিইসি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। ফাইল ছবি

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৬:৪৪, ১৯ মে ২০২৬

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, দেশে ধারাবাহিকভাবে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা, সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি।

আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) সম্মেলন কক্ষে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও রক্তপাতহীন করতে রাজনৈতিক দলগুলোকেই আগে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে প্রায়ই সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতায় পৌঁছানো প্রয়োজন।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, এ নির্বাচনের মূল্যায়ন তিনি জনগণ, গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর ছেড়ে দিতে চান। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে একতরফা প্রশংসা বা সমালোচনার চেয়ে সব ধরনের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্যেই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নিহিত।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের সময় কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করেনি। “আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা,” বলেন তিনি।

সিইসি জানান, আগের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও সহযোগিতা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যেই প্রার্থী মনোনয়নের ঘোষণা দিচ্ছে, যা নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে।

তিনি বলেন, “একটি নির্বাচন ভালো হলেই হবে না, দেশে ভালো নির্বাচনের একটি স্থায়ী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” এ জন্য রাজনৈতিক দল, ভোটার, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আরএফইডি’র ভূমিকাও তুলে ধরে সিইসি বলেন, সংগঠনটি শুধু নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নয়, ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দলের বক্তব্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত মতামত ও বিশ্লেষণ থেকেও নির্বাচন কমিশন উপকৃত হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারাই অধিকাংশ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। কোথাও ত্রুটি দেখা দিলে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

সিইসি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি ও পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। এসব প্রস্তুতি শেষ করে সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া কোনো ভালো নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। আমরা আন্তরিকতার ঘাটতি রাখব না, তবে সফল নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি হবে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা।”

আরএফইডি’র সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দিন জেবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হেলাল হাফিজ, ডিইউজে সভাপতি শহিদুল ইসলাম এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের সভাপতি ফাহিম আহমেদ।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement