জাতীয় নদী দিবস আজ: নদী রক্ষায় সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বানবাংলা সংবাদ
Published : ১৬:০১, ২৩ মে ২০২৬
আজ সারাদেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় নদী দিবস। নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রকৃতি, অর্থনীতি, কৃষি, সংস্কৃতি ও জনজীবনে নদীর অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।
এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে, নদী রক্ষায় সবাই এগিয়ে আসুন।”
দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আলোচনা সভা, সেমিনার, র্যালি, নদী পরিষ্কার অভিযান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি দপ্তর, পরিবেশবাদী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
জাতীয় নদী দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক বিকাশের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। কৃষি উৎপাদন, নৌপরিবহন, মৎস্যসম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন নদীকেন্দ্রিক হওয়ায় নদী দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
তবে দখল, দূষণ, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, শিল্পবর্জ্য ও পলিথিন ফেলার কারণে দেশের বহু নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছোট-বড় অসংখ্য নদী নাব্যতা হারিয়ে ক্রমেই মৃতপ্রায় হয়ে পড়ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, নদী কেবল পানির উৎস নয়, এটি একটি জীবন্ত প্রতিবেশ ব্যবস্থা। নদী রক্ষা করা গেলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে। অন্যদিকে নদী ধ্বংস হলে জলাবদ্ধতা, বন্যা, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
সরকার নদী রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নদীর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, খননের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নদী কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কার্যকর তদারকি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে নদী পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তারা নতুন প্রজন্মের মধ্যে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন।
































