আইজিপি পদে পরিবর্তনের আলোচনা, বিবেচনায় চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা
Published : ১৬:১৬, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর আইজিপি পদে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পদটির জন্য বিসিএস ১৫তম ব্যাচের চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁরা হলেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। বর্তমান আইজিপি আলী হোসেন ফকিরও একই ব্যাচের কর্মকর্তা।
নতুন আইজিপি নিয়োগের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সরকারপ্রধানের ওপর নির্ভর করছে। ফলে আলোচনায় থাকা চার কর্মকর্তার বাইরেও অন্য কোনো নাম বিবেচনায় আসতে পারে। নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন, অতীতের কর্মকাণ্ড এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বিবেচনা করা হতে পারে।
এরই মধ্যে চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্যসংবলিত নথি তলব করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’সংক্রান্ত বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী মন্তব্যটিকে সরকারের জন্য ‘বিব্রতকর’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য ‘ঠিক হয়নি’। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আইজিপি পদে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সমালোচনার পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, তিনি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। এ ছাড়া সাংবাদিকেরা মাদকের অর্থের ভাগ না পেলে লেখেন—এমন মন্তব্যও অসাবধানতাবশত করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও বিবৃতি দিয়ে আইজিপির বক্তব্যের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়েছে।
কী বলেছিলেন আইজিপি?
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ারে’ যেতে দ্বিধা করবে না। একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে তাদের ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়া হয়, আর নিষ্ক্রিয় থাকলে ‘দুর্বল’ বলা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন আইজিপি। তাঁর বক্তব্য, মাদকের অর্থের ভাগ না পেলে সাংবাদিকেরা লেখেন এবং পুলিশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তোলেন।
এসব মন্তব্য রাজনৈতিক মহল, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই রাতেই পুলিশ সদর দপ্তর ব্যাখ্যা দেয় যে, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা শাস্তি বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি; বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতে রূপক অর্থে শব্দটি বলেছেন।





























