জোবায়েদ হত্যা মামলা: অভিযোগ গঠনের শুনানি ৮ নভেম্বর
Published : ১৬:১৯, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ৮ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার ২০তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাজেদুল ইসলাম জানান, বুধবার মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির কথা ছিল। তবে আসামি বার্জিস শাবনাম বর্ষা ও তাঁর প্রেমিক মো. মাহির রহমানের পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবীরা। অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য তাঁদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা দেশের বাইরে রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত শেষবারের মতো সময় দিয়ে ৮ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
মামলার তিন আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। শুনানির দিন তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে আরও দুই দফা অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে হত্যার শিকার হন জোবায়েদ। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রীর বাসার নিচতলায় তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে ভবনের তৃতীয় তলার সিঁড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত। মামলার প্রায় নয় মাস পর, গত ৩০ জুন তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন।
অভিযোগপত্রে জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তাঁর প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে তাঁদের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন জোবায়েদ হোসেন। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বংশাল থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়াতে যান।
সেদিন সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে ওই ছাত্রী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জোবায়েদের অনুজপ্রতিম সহপাঠী সৈকতকে মেসেঞ্জারে জানান, জোবায়েদ স্যার খুন হয়েছেন। কারা তাঁকে হত্যা করেছে, তা তিনি জানেন না বলেও বার্তায় উল্লেখ করেন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. কামরুল হাসান ফোন করে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে খবরটি জানান।
খবর পেয়ে এনায়েত তাঁর শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রৌশান ভিলায় যান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় তাঁরা সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে তৃতীয় তলার একটি কক্ষের পূর্ব পাশে সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন।


































