এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পথে সরকার
Published : ১৬:৫৪, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
দেশের স্বাস্থ্যসেবায় জনবলসংকট দূর করতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন ধাপে এই বিশাল নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই প্রথম পর্যায়ে ৪৫ হাজার ৭০০ জন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ রয়েছে, যাতে প্রান্তিক এলাকার মানুষ দ্রুত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনেও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় তিনি বলেছিলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের একাধিক বিভাগ ও অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রথম ধাপে নির্ধারিত ৪৫ হাজার ৭০০ জন কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে প্রাথমিক কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের শূন্য পদে দ্রুত সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়। এতে ২০১৮ সালের নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে যেসব প্রতিষ্ঠানে আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও নিয়োগ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, সেসব পদেও নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পদগুলোর ছাড়পত্র সংগ্রহ করে সমন্বিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগে বাধা সৃষ্টি করা জটিলতাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান জনবলসংকটের চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাঠপর্যায়ে অনুমোদিত ৬৫ হাজার ২৩০টি পদের মধ্যে ১৮ হাজার ৯৪৭টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে অনুমোদিত জনবলের একটি বড় অংশের পদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
শূন্য পদের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সহকারী পদ রয়েছে ৬ হাজার ৯৫৩টি। এ ছাড়া পরিবারকল্যাণ সহকারীর ৮ হাজার ২৯৩টি পদও খালি রয়েছে। মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারকল্যাণ কার্যক্রম পরিচালনায় এসব পদের গুরুত্ব থাকায় জনবলসংকট সেবাদানের ওপর প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, লালমনিরহাটে চিকিৎসকদের ৫০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি)-এর ২৩০টি পদের মধ্যে ১৬০টি পদই ফাঁকা। এসব শূন্য পদ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কর্মীর অভাবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মাঠপর্যায়ে জনবলের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে। তবে নিয়োগের পরবর্তী ধাপ, সময়সূচি এবং সব পদ পূরণের চূড়ান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।





























