অনলাইন হয়রানি: আইনি পদক্ষেপ নিলেন বিজয়-রাশমিকা

অনলাইন হয়রানি: আইনি পদক্ষেপ নিলেন বিজয়-রাশমিকা ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন ডেস্ক

Published : ১৬:৩৯, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার, বিকৃত স্ক্রিনশট ছড়ানো ও অনলাইন হয়রানির অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন দক্ষিণ ভারতীয় তারকা বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। তাঁদের প্রতিনিধিরা হায়দরাবাদের সাইবার অপরাধ তদন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং সোমবার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা নথিভুক্ত হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই তারকার সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের নামে মনগড়া বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরোনো বক্তব্য ও তথ্য বিকৃত করে উপস্থাপন, ভুয়া স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।

বিজয় ও রাশমিকাকে ঘিরে অনলাইনে আলোচনা নতুন করে শুরু হয় জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এ তাঁদের প্রেম ও বিয়ে নিয়ে কথোপকথনের পর। অনুষ্ঠানে বিজয় জানান, রাশমিকাকে বিয়েতে রাজি করাতে তাঁকে প্রায় ১০০ বার প্রস্তাব দিতে হয়েছিল। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।

অনুষ্ঠানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের একাংশ দুই তারকাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তাঁদের পুরোনো সাক্ষাৎকারের ভিডিও সামনে এনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে এসব আলোচনা ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের পর্যায়ে পৌঁছায়।

এ পরিস্থিতিতে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আট পৃষ্ঠার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন রাশমিকা মান্দানা। সেখানে তিনি মতপ্রকাশ ও সমালোচনার অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের নিয়ে যা ঘটছে, তা স্বাভাবিক সমালোচনার সীমা অতিক্রম করে ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, কারও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও সেই স্বাধীনতার আড়ালে কাউকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো গ্রহণযোগ্য নয়।

বিজয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ও বিয়ের প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন রাশমিকা। তিনি জানান, বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুজনেরই নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন ছিল। বিজয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় চেয়েছিলেন। তবে সেই সময় চাওয়াকে ভালোবাসার অভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না বলে উল্লেখ করেন অভিনেত্রী।

নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির কথাও বিবৃতিতে তুলে ধরেন রাশমিকা। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা করার সময় পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে আক্রমণ না চালানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিবারের মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

অন্যদিকে, স্ত্রী রাশমিকাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন বিজয় দেবরাকোন্ডা। সেখানে তিনি রাশমিকাকে নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখের বলে জানান। অনলাইনে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই বিজয়ের এই প্রকাশ্য বক্তব্য সামনে আসে।

তারকা দম্পতির প্রতিনিধিদের অভিযোগ, তাঁদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া বক্তব্য প্রচার, বিকৃত স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া, ভুয়া পরিচয়ে প্রচারণা চালানো এবং পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী জড়িত কি না, কিংবা অর্থের বিনিময়ে কোনো প্রচারণা পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রতিনিধিরা আরও জানিয়েছেন, তাঁরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকারের বিরোধী নন। তবে মতামত প্রকাশ এবং মিথ্যা বা বিকৃত তথ্যকে সত্য হিসেবে প্রচারের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের লিংক ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো মামলা নথিভুক্ত করেনি। কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কে থাকার পর চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের উদয়পুরে বিয়ে করেন বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই অনলাইন হয়রানি ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

শেয়ার করুনঃ
Advertisement