গাড়ি উৎপাদনসহ পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

গাড়ি উৎপাদনসহ পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৬:২২, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

গাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন—এই পাঁচটি খাতে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) কার্যালয়ে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে মূল বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে দেশটিতে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের নিচে। গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৩৬ কোটি ডলার। বিপরীতে, জাপান থেকে বাংলাদেশ ২১৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।

গাড়ি উৎপাদন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানায় পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যে টয়োটার পরিকল্পনাকে সরকার স্বাগত জানিয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

জ্বালানি খাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

রেল ও যোগাযোগ খাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের প্রধান শহরগুলোকে যুক্ত করে উঁচু পথে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। এ ছাড়া রেল ও লজিস্টিকস খাতে জাপানি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আড়াইহাজারে বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি মান অনুযায়ী শিল্প স্থাপন করা হচ্ছে। সুমিতোমো করপোরেশন অঞ্চলটির উন্নয়নকাজ পরিচালনা করছে।

জাপানি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, উন্নত অবকাঠামো, শুল্ক ছাড় এবং করব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে জাপানি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখন উন্নয়ন সহযোগিতার প্রচলিত গণ্ডি পেরিয়ে আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের জন্য দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement