‘বিএনপির বেপরোয়া রাজনীতিতে দেশবাসী অতিষ্ঠ’, সাদিক কায়েমের কড়া সমালোচনা
Published : ১২:৪৬, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তাঁর অভিযোগ, গত দুই বছরে বিএনপির বেপরোয়া রাজনীতির কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে দলটির নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাদিক কায়েম।
সোহাগ ও শাকিল হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন
ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। মিটফোর্ডে পাথরকাণ্ডে নিহত সোহাগের ঘটনার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি নাটোর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের হত্যাকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সাদিক কায়েমের দাবি, বিএনপির সংসদ সদস্যের দুই ছেলের বিরোধের জেরে শাকিল ইসলাম নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও বিএনপির পক্ষ থেকে নীরবতা বজায় রাখার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ স্বার্থ ও হিসাব-নিকাশের কারণে অপরাধের প্রতিবাদ বাধাগ্রস্ত হলে তা দেশের রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ
পোস্টে সাদিক কায়েম আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী দলীয় প্রশ্রয়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হত্যা ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন। তাঁর দাবি, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রেও কখনো কখনো শুধু দল থেকে বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিহিংসা ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছানোর অভিযোগ উঠছে, যেখানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব কর্মীরাও সহিংসতার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
বিএনপিকে রাজনীতি পরিবর্তনের আহ্বান
নিজের পোস্টের শেষাংশে বিএনপিকে সহিংস রাজনীতি পরিহার এবং অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করার আহ্বান জানান সাদিক কায়েম। অন্যথায় জনগণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সাদিক কায়েমের এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হতে পারে। তবে তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দল ও ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

































