শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও নিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তাহসিফ সাউরি
Published : ১৬:১৪, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি নিয়ে একটি পডকাস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। তার মৃত্যুর পর ‘স্পিক উইথ রশিদ’ ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গত ২১ জুলাই ‘মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ইনসাইড দ্য বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স’ শিরোনামে প্রকাশিত পডকাস্টে তাহসিফ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি এবং শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। তিনি নিজেও মাইলস্টোন কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।
পডকাস্টে উপস্থাপক জানতে চান, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরে ‘র’-এর নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি কতটা সত্য। জবাবে তাহসিফ বলেন, তার মতে, তাকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন প্রচারণামূলক ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রিফাত আশরাফি ভিডিওটি ধারণ করেছেন এবং তিনি সেটি ছড়িয়ে দিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পেছনে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ভূমিকা রেখেছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তাহসিফ বলেন, ‘হতে পারে’। তিনি জানান, ওই সময়ের সব ঘটনা প্রকাশ করার সুযোগ বা সক্ষমতা তার নেই। তবে তার ধারণা, অভিযোগটির কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
‘র’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে তাহসিফ বলেন, এ ধরনের দাবি হাস্যকর। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটির শিরোনাম ও উপস্থাপনায় তাকে গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হলেও এর সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এ কারণে তাকে সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি এ বিষয়ে আইএসপিআরের বিবৃতি দেখার কথাও বলেন।
অন্যদিকে, তাহসিফের এক বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেওয়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম ফেসবুকে দাবি করেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ভাইরাল করার ঘটনার সঙ্গে তাহসিফ জড়িত ছিলেন। তাহসিফের মৃত্যুর খবর জানিয়ে দেওয়া পোস্টে তিনি ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে তার পোস্টে উত্থাপিত সন্দেহের পক্ষে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
ইনতিসার ইনজিমাম আরও লেখেন, তাহসিফ আদমজী কলেজে তার বন্ধু ছিলেন এবং পরে তারা বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে একই কোর্সে অংশ নেন। তার দাবি, ৫ আগস্টের ভিডিও ফাঁসের পর তাহসিফকে বিভিন্ন বিষয়ে মানহানির মুখে পড়তে হয়েছিল, যদিও তার জানা মতে তার বিরুদ্ধে পুলিশি মামলা করা যায়নি। তিনি তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে ওই ভিডিও ফাঁসের ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে নিজের বিশ্বাসের কথা জানান।
তাহসিফের পডকাস্টের বক্তব্য এবং তার বন্ধুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দাবিগুলো পরস্পরের থেকে ভিন্ন। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া, গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা কিংবা মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ নিয়ে উত্থাপিত বক্তব্যগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন; এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।





























