সুবিধাভোগীরা ফের মাঠে: নাহিদ ইসলাম
Published : ২১:০৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মূল সমস্যা হলো বৈষম্য ও দুর্নীতি।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে দেশের গঠনতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পুনর্গঠন চেষ্টা করা হলেও, পুরোনো সুবিধাভোগীরা এখনও ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নির্বাচনের মাঠে পূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে নেমে এসেছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতের নির্বাচনী ভাষণে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, গত ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে খুনি হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গুম, হত্যা, বিনা বিচারে কারাবন্দি, হামলা, নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলা চালাতে রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বাঙ্গীণ ব্যবহার করেছে।
আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআইসহ সরকারি সকল বাহিনী ও সংস্থা সক্রিয়ভাবে এই কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে। তার এই অপকর্মে জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর এই অত্যাচারের কাঠামো কিছুটা ভেঙে পড়লেও অপরাধীরা এখনও অনেকে আইন ও বিচার থেকে দূরে। অনেক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এখনো কার্যত নিয়োজিত রয়েছেন, তবে কিছু জেনারেল পালিয়ে গেছে, এবং কিছু রিটায়ার্ড অফিসারের তথ্য জনসমক্ষে ফাঁসের চেষ্টা করেছে, যা সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতা দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী নামানো হয়েছিল, কিন্তু সুপিরিয়র কমান্ডের অনাগ্রহের কারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি।
এছাড়া তিনি বলেন, দেশের ব্যাংক ও উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। এগুলো উদ্ধার ও দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সকল ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
লুটপাট ও অর্থপাচারে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ছাড় পাবেন না। বিদেশে পাচারকৃত অর্থ শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে এনে ‘পাবলিক ট্রাস্ট’-এ রাখা হবে এবং দক্ষ পেশাজীবীদের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানে পুনঃস্থাপন করা হবে। স্বকীয় পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।
সার্ক ও আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সারা পৃথিবীতে মিশন সম্প্রসারণ ও সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ কারণে বাহিনী দুর্বল ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বর্তমান প্রতিরক্ষা খাতের বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতনভাতায় ব্যয় হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অকার্যকর।
এনসিপি ক্ষমতায় এলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও হাই-টেক বাহিনীতে রূপান্তর করা হবে। দেশের ১৮ ঊর্ধ্ব যুবতীর জন্য বাধ্যতামূলক মিলিটারি ট্রেনিং চালু করা হবে, যা সমগ্র দেশে জনভিত্তিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায্য মূল্যে ভোগ্যপণ্য নিশ্চিত করা। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও আমলার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। আইন প্রয়োগ করে অবৈধ মজুত ও কারসাজিতে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে।
তিনি বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীকে অতীতের নির্যাতনমূলক ভূমিকার জন্য সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে যারা হত্যা, নির্যাতন, জুলুম, মিথ্যা মামলা ও ঘুষ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থা দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর। সাধারণ মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে কেবল একজন প্রতিপক্ষের নয়, বরং একটি জটিল ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন।
থানায় মামলা নিতে অনীহা, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, আদালতে তারিখের পর তারিখ পড়া এবং ব্যাপক অর্থ ব্যয়ের চাপের কারণে বিচার প্রক্রিয়া আজকে জনগণের জন্য এক দুরূহ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিডি/এএন





























