ঘাড়ব্যথা থেকে প্রতিকারের উপায় কী—জানুন সহজ সমাধান
Published : ০১:২৪, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বর্তমানে ঘাড়ব্যথা অনেকের দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ অথচ বিরক্তিকর সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আধুনিক জীবনে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা,
অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার এবং ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর অভ্যাস এই ব্যথার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। যদিও শুরুতে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না পেলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘাড়ব্যথা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির রূপ নিতে পারে।
ঘাড়ব্যথা তীব্র হলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং কর্মক্ষমতাও কমে যায়। তাই চিকিৎসকদের মতে, সমস্যাটি অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, ঘাড়ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা মাথা নিচু করে কাজ করা, যা ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, খেলাধুলার সময় চোট কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা—যেমন স্পন্ডাইলোসিস—এই ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে।
ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত টানের ফলে সৃষ্ট মাসল স্প্যাজম যেমন কষ্টদায়ক, তেমনি সংক্রমণ, টিউমার কিংবা আর্থ্রাইটিসের মতো রোগও ঘাড়ব্যথার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
ঘাড়ব্যথার লক্ষণ হিসেবে সাধারণত ঘাড়ে হালকা থেকে তীব্র ব্যথা, জ্বালাপোড়া অনুভূতি, ব্যথা হাত বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়া এবং ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা যায়।
চিকিৎসা মূলত ব্যথার কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা পেশি শিথিলকারী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ও নির্দিষ্ট ব্যায়াম ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা কমাতে হিট বা আইস থেরাপি এবং মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে ট্রাকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। গুরুতর পরিস্থিতিতে স্টেরয়েড ইনজেকশন কিংবা শেষ বিকল্প হিসেবে অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে ঘাড়ব্যথা প্রতিরোধ করা সম্ভব। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে না থেকে মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া, কম্পিউটারে কাজের সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করা জরুরি।
পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো যায়।
বিডি/এএন

































