ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রকৃত ভালোবাসা ও ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি; বরং বিভিন্ন কৌশল, ‘কায়দা’ ও পরিকল্পিত ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে তারা ফলাফল নিজেদের অনুকূলে নিয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দেশ বহু রাজনৈতিক পালাবদল ও বিভিন্ন মতাদর্শের সরকার দেখেছে, কিন্তু ইসলামি আদর্শভিত্তিক সরকার গঠনের অভিজ্ঞতা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এবার জনগণের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ছিল, বিশেষ করে তরুণ সমাজ পরিবর্তনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, তাদের সংস্কার ও পরিবর্তনের আহ্বানে ৬৯ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে, যা জনগণের পরিবর্তনচাওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাই ফলাফল থেকেই বোঝা যায়, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন পাননি।
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে, বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে, এমনকি কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নয়-ছয় করা হয়েছে। দেশের অনেক কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, তারা রক্তের বিনিময়ে ভোট আদায়ের পথ বেছে নেয়নি বলেই অনেক জায়গায় কেন্দ্র ত্যাগ করেছে। তবে ভবিষ্যতে এসব কৌশল সম্পর্কে তারা সতর্ক থাকবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
স্বল্প আসন পেয়েও কেন সংসদে যোগ দিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের যে ভোটের স্বীকৃতি পাওয়া গেছে, তার মর্যাদা রক্ষা করাই তাদের দায়িত্ব। সংসদে গিয়ে দলীয় স্বার্থ নয়, বরং জনগণের পক্ষে কথা বলাই তাদের লক্ষ্য হবে এবং মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করবেন।
সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এমপি-মন্ত্রীদের সরকারি প্লট গ্রহণ না করা এবং ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি ব্যবহার না করার ঘোষণা প্রথমে তারাই দিয়েছিলেন। সরকার সেই অবস্থান অনুসরণ করায় তিনি অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার সিদ্ধান্তকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঢাকা-১৫ আসন (মিরপুর-কাফরুল) এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, রমজান মাসে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। যারা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদার চাপে ভুগছেন, তাদের চাঁদা না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কেউ বাধা দিলে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও বলেন।
এছাড়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সুযোগ পেলে তিনি মাসে অন্তত একদিন সরাসরি জনগণের মুখোমুখি হবেন, তাদের সমালোচনা ও পরামর্শ শুনবেন এবং সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।


































