রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নানা কৌশলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা
Published : ২১:০৬, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের রেস না পেরোতেই এখন আলোচনায় এসেছে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। কবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হবে, কমিশন এখনো সেই দিনক্ষণ নির্ধারণ না করলেও এরই মধ্যে ভোটের মাঠে নিজস্ব প্ল্যাটফরমে নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীগণ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা কৌশলে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের প্রচারণা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওয়ার্ডভিত্তিক মতবিনিময়, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা সব মিলিয়ে রংপুর নগরীতে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়ে গেছে।
দলীয় মনোনয়ন ও ভোটারদের আস্থা অর্জনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কৌশলী তৎপরতা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে এককভাবে জয় পেয়েছে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট।
এমনকি সিটি কর্পোরেশনের ভেতর থাকা আসনটিতেও জিতেছে দলটি। ফলে এবার সিটি কর্পোরেশনও নিজেদের আয়ত্বে আনতে প্রার্থী বাছাইয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সেই ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষ্য দলের ভেতর থেকেই অর্থাৎ সরাসরি দলীয় পদবি আছে এমন প্রার্থী বাছাই করা।
তবে, এমন প্রার্থী না পাওয়া গেলে জামায়াতকে পছন্দ করেন বা পরিবারের কোনো সদস্যের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং যথেষ্ট জনপ্রিয় এমন প্রার্থীই তাদের দ্বিতীয় লক্ষ্য।
এদিকে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির রংপুর মহানগর কমিটির সদস্যসচিব মাহফুজ-উন-নবী ডন ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজু নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহ দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নিজস্ব প্লাটফরমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি নেতা কাওসার জামান বাবলা। জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যার ও সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ছুটছেন একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। এছাড়া স্বতন্ত্র থেকে তানবীর হোসেন আশরাফির নাম শোনা যাচ্ছে।
তিনিও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নীরব প্রচারণা চালাচ্ছেন। রংপুর-৩ (সদর) আসন ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সালের প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে দখলে থাকা জাতীয় পার্টির আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত জিতেছে এক লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোটে। তাঁর নিকটতম প্রার্থী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শমছুজ্জামান সামু পান ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করেন। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমন জয়ের পর কোনোভাবেই নগর ভবন অন্যের হাতে যাতে না যায়, সে বিষয়ে তৎপর রয়েছে জামায়াত। অন্যদিকে, যে প্রার্থী জামায়াতের ভোট ব্যাংক ভেঙে বিজয় আনতে পারবে, তাকেই প্রার্থী নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি।
এ কারণে দলটি ভেবে চিন্তে প্রার্থী চড়ান্ত করতে চায় বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। একই অবস্থা জাতীয় পার্টিতেও। যদিও রংপুর সিটিতে তাঁদের বিজয় আনতে দলের কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমানের বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন দলের একাধিক স্থানীয় শীর্ষ নেতা।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডভিত্তিক ছোটছোট সভা ও উঠান বৈঠক, ফেসবুক লাইভ ও ভিডিও বার্তা প্রচার, দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত, পাড়া-প্রতিবেশীদের ছোট ছোট সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রার্থীরা নগর উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্মসংস্থান ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার প্রতিশ্রুতি সামনে আনছেন।
রংপুর মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, আমি কারমাইকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি।
ছাত্র অবস্থায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম। ১৯৯০ সালে কারমাইকলে কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ছিলাম। এছাড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ছিলাম। বর্তমানে আমি মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
মিজু বলেন, আমি ফ্যাসিস্ট আমলের সাড়ে ১৭ বছর নির্যাতিত ছিলাম। দলের জন্য কাজ করেছি। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নগরবাসীর জন্য কাজ করেছি। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। জামায়াতের রংপুর মহানগর আমীর অধ্যাপক এ টি এম আজম খান বলেন, জামায়াত নির্বাচন করবে এটা সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি।
জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, আমি মেয়র ছিলাম। আমাকে অন্যায়ভাবে অপসারণ করা হয়েছে। নগরবাসী সেটা জানে। আমি এবারও নির্বাচন করব, সেই প্রস্তুতি আমার ও দলের রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আমি নির্বাচন করলে নগরবাসী আমাকে বঞ্চিত করবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ বলেন, তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা সফট ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন। এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এতে আইনি জটিলতা এড়ানো যায়, আবার ভোটারদের সঙ্গে সংযোগও তৈরি হয়। প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় ভূমিকা রাখছে।
বিডি/এএন






























