পিলখানায় সেনা হত্যার বিচার না হলে জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে না-মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন
Published : ২১:৪৮, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘২০০৯ সালের কথিত বিডিআর বিদ্রোহের নামে দেশপ্রেমী সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং তা ছিলো দেশ ও জাতিস্বত্তা বিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং পূর্ব পরিকল্পিত’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি আজ পিলখানায় সেনা অফিসার হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, পিলখানার তথাকথিত বিদ্রোহের ঘটনা ছিল দেশ বিরোধী আধিপত্যবাদী, সম্প্রসারণবাদী এবং তাদের তাবেদারদের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব অরক্ষিত করার জন্যই সেদিন ৫৭ জন চৌকস, মেধাবী ও দেশপ্রেমী সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে দেশ ও জাতিকে কলঙ্কিত করেছিলো। কোন যুদ্ধেও এতো সংখ্যক সেনা কর্মকর্তার প্রাণহানীর কোন রেকর্ড নেই। তাই এ নির্মম হত্যাযজ্ঞে জড়িত ও দায়িদের নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একই সাথে এদেশ থেকে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতি চিরতরে বিদায় দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে জনগণের শাসন। গণরায়ের মাধ্যমে অনুমোদিত জুলাই সনদও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে; যাতে নতুন করে কেউ স্বৈরাচারি ও ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ না পায়। তিনি পিলখানা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু মহল বিশেষ পরিকল্পিতভাবে গণরায় ছিনতাই করে নিয়েছে। কিন্তু দেশের আত্মসচেতন মানুষ অতীতের রাজনীতির অশুভ বৃত্তে আর ফিরে যেতে চায় না বরং তারা অপশাসন-দুঃশাসন, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, দুর্নীতি ও লুটপাট মুক্ত নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়।
তারা পতিত ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসন চায় না বরং গণহত্যা সহ তাদের সকল অপকর্মের সুষ্ঠু বিচার চায়। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সরকার দলীয়দের নিয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকারের এমন গর্হিত সিদ্ধান্ত দেশকে নতুন করে ফ্যাসিবাদী বৃত্তে বৃত্তাবদ্ধ করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
তিনি অবিলম্বে দলীয় বিবেচনায় সিটি কর্পোরেশনগুলোতে প্রশাসকদের প্রত্যাহার করে অবিলম্বে নির্বাচন দেওয়ার আহবান জানান। অন্যথায় সরকারের যেকোন অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে জনগণ বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেবে না।
মহানগরী উত্তর আমীর বলেন, দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই সেনা হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছিলো। ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছিলো অসংখ্য নিরাপরাধ বিডিআর জওয়ানকে।
তারা ফ্যাসীবাদী সরকারের অবিচারের শিকার হয়ে দীর্ঘ পরিসরে কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন এবং কেউ কেউ এখনো রয়েছেন। কথিত বিচার ছিলো রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত।
ফলে অনেকে পরিবার-পরিজন, পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে হয়েছেন সর্বশান্ত হয়েছেন। তিনি বিডিআর হত্যাকান্ডের অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে না।
বিডি/এএন






























