স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিডিআর হত্যাকাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি এ কথা বলেন বনানী সামরিক কবরাস্থানে বিডিআর বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার স্মৃতি স্তম্ভের বেদিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে এবং গণতন্ত্র অটুট রাখার জন্য দৃঢ়ভাবে এগিয়ে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, যা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব সুসংগত রাখা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
তিনি জানান, বিএনপি বিশ্বাস করে যে দলটি অতীতের মতো বর্তমানেও তার মূল লক্ষ্য বজায় রেখে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করবে।
পাশাপাশি তিনি জোর দেন, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। এতে দায়ী ব্যক্তি ও শক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মহাসচিব বলেন, পিলখানার সেই শহিদ সেনাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানাই। ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের এই হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে আমরা জাতির জন্য কলঙ্কজনক এবং লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবে মনে করি। এই দিনে দেশের পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার একটি গভীর চক্রান্ত চলেছিল। চৌকশ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে দেশের সেনাবাহিনী এবং জাতির মনোবলকে ভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মিজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিদ্দিকুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার জাহিদ হোসেন, জাগপার চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান, বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকির আহমেদ ভুঁইয়া এবং বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে ঘটে যাওয়া বিদ্রোহের ঘটনায় তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং মোট ৭৪ জন নিহত হন।
পরবর্তী সময়ে গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই দিনটি বাংলাদেশে জাতীয় শহিদ সেনা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
































