ছয় মাসের সাধনায় কোরআনের হাফেজ ১০ বছরের সিদ্দিক
Published : ১৩:১১, ৫ মার্চ ২০২৬
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ছয় মাসের মধ্যে পবিত্র কোরআন সম্পূর্ণ হিফজ করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে ১০ বছর বয়সী শিশু আবু বকর সিদ্দিক। তার এই ব্যতিক্রমী সাফল্যে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্য, শিক্ষক এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।
আবু বকর সিদ্দিক হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়ন-এর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরচেঙ্গা গ্রামের হাজী মুখলেছুর রহমানের বাড়ির বাসিন্দা। তিনি শিক্ষক মো. বেলাল উদ্দিন ও মোসাম্মৎ আয়েশা ছিদ্দিকা দম্পতির সন্তান।
কোম্পানীগঞ্জের দারুল আরকাম মাদরাসার হিফজ বিভাগে ভর্তি হয়ে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সে সম্পূর্ণ কোরআন শরিফ মুখস্থ করতে সক্ষম হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সিদ্দিকের পরিবারে আগেও ৬-৭ জন কোরআনের হাফেজ রয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে কোরআন শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। সন্তান জন্মের পর থেকেই তাকে একজন হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা পোষণ করেন তার বাবা-মা।
সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০২৫ সালের শুরুতে তাকে কোম্পানীগঞ্জের দারুল আরকাম মাদরাসার হিফজ বিভাগে ভর্তি করানো হয়। পরে পরিবারের উৎসাহ ও শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে মাত্র ছয় মাসেই সে পুরো কোরআন হিফজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়।
শিশু হাফেজ আবু বকর সিদ্দিক জানায়, ছোটবেলা থেকেই তার কোরআন তিলাওয়াত করতে খুব ভালো লাগে। মাদরাসার শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং পরিবারের অনুপ্রেরণায় সে নিয়মিত অধ্যয়ন চালিয়ে গেছে। ভবিষ্যতে সে একজন বড় আলেম এবং দেশবরেণ্য হাফেজ হতে চায়।
সিদ্দিকের বাবা মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ছোটবেলা থেকেই ছেলের মধ্যে কোরআনের প্রতি গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করেছি। সেই কারণেই আমরা সিদ্ধান্ত নিই তাকে হিফজ বিভাগে ভর্তি করানোর।
আল্লাহর অশেষ রহমতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সে পুরো কোরআন মুখস্থ করতে পেরেছে। একজন বাবা হিসেবে এটি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের বিষয়। আমি চাই আমার ছেলে ভবিষ্যতে একজন যোগ্য আলেম হয়ে দ্বীনের খেদমত করুক। এজন্য আমি সবার কাছে তার জন্য দোয়া কামনা করছি।
মাদরাসার হিফজ বিভাগের প্রধান হাফেজ মুহাম্মদ মুনাওয়ার বলেন, শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান এবং পরিবারের আন্তরিক সহযোগিতার কারণে সিদ্দিক দ্রুত কোরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছে।
আমরা আশা করি ভবিষ্যতে সে বড় আলেম হয়ে ইসলামের খেদমত করবে। এত অল্প বয়সে তার এই কৃতিত্ব অন্য শিশুদেরও দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।
মাদরাসার সহকারী মুহতামিম মাওলানা রফিকুল ইসলাম জানান, সিদ্দিক অত্যন্ত মনোযোগী এবং পরিশ্রমী একজন শিক্ষার্থী। নিয়মিত অধ্যবসায় ও প্রচেষ্টার ফলেই সে অল্প সময়ের মধ্যেই কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করতে পেরেছে। তার এই সাফল্যে স্থানীয় বাসিন্দারাও অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।
বিডি/এএন


































