হরমুজ থেকে আসা ১৫টি জাহাজ এখন চট্টগ্রাম বন্দরে
Published : ১৯:০২, ৭ মার্চ ২০২৬
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতের ঠিক আগে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর অতিক্রম করে আসা ১৫টি পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
বৈশ্বিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি বন্ধ ঘোষণার আগেই জাহাজগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। ফলে দেশে জ্বালানি তেল, এলএনজি এবং বিভিন্ন শিল্প কাঁচামালের বড় একটি চালান পৌঁছানো নিশ্চিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানিয়েছে, এই ১৫টি জাহাজে মোট প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে নোঙর করেছে এবং বাকি তিনটি জাহাজ চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে চারটি জাহাজে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), দুটি জাহাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং নয়টি জাহাজে রয়েছে সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার।
বিপজ্জনক এই নৌপথ পাড়ি দিয়ে কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
এছাড়া ‘আল গালায়েল’ ও ‘লুসাইল’ নামের আরও দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ আগামী সোমবার ও বুধবারের মধ্যে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, চারটি জাহাজের আগমন নিশ্চিত হলেও ‘লিবারেল’ নামের আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে আটকে আছে, যা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি পণ্যের পাশাপাশি ওমানের সোহার বন্দর থেকে ‘সেভান’ ও ‘জি ওয়াইএমএম’ নামের দুটি জাহাজে করে প্রায় ৩৫ হাজার টন এলপিজি আসছে মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির জন্য।
এছাড়া কুয়েতের শুয়াইবা বন্দর থেকে পাঁচ হাজার টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) নিয়ে ‘বে ইয়াসু’ নামের একটি জাহাজ গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে।
শিল্প খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন ক্লিংকার, জিপসাম ও চুনাপাথর বহনকারী জাহাজগুলোও বর্তমানে বন্দরের জলসীমায় অবস্থান করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশ প্রতি বছর এই রুট ব্যবহার করে কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ সাতটি দেশ থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে থাকে, যার বড় অংশই জ্বালানি।
বর্তমান চালান দেশে পৌঁছানোয় সাময়িক স্বস্তি এলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভবিষ্যতে নতুন করে জাহাজ আসা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিডি/এএন






























