মধ্যরাত থেকে ইসরায়েলে ৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
Published : ১৭:৫৫, ৭ মার্চ ২০২৬
প্রতি ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মুখে পড়ছে ইরান। রাজধানী তেহরানে দফায় দফায় বিমান হামলা চালানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তবে এই হামলার জবাবে পাল্টা প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে ইরানও। তাদের হামলার প্রধান লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা।
ইরানে হামলার সময় তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ আলি-আসগর হেজাজিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ইসরায়েলি গণমাধ্যম। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে কোম শহরে যৌথ হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে নাতাঞ্জ শহরের কাছাকাছি এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, চলতি সপ্তাহে ইরানে তিন হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, অভিযান শুরুর পর গত এক সপ্তাহে তেহরানের ৪৩টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে পাল্টা হামলার দাবি করেছে তেহরানও। ইরান জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে থাকা থাড রাডার ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের FPS-132 রাডার ধ্বংসের কথাও তারা জানিয়েছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসি জানায়, তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’-এর ২৩তম দফা অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে ইসরায়েলের রাজধানী তেলআবিব, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এবং হাইফার সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে তেলআবিবের দাবি, এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যদিও ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় দিনরাত সাইরেন বাজতে শোনা গেছে। শুক্রবারের অভিযানে খোররামশার-৪ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি।
একই সঙ্গে ইরাকের বসরা শহরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন বিদেশি তেল কোম্পানির কর্মীদের আবাসস্থল লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে এখন পর্যন্ত ইরান থেকে তাদের দিকে অন্তত পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
তবে ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসাকর্মীরা। প্রাথমিক সামরিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং সেগুলো সরাসরি কোথাও আঘাত হেনেছে—এমন কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
বিডি/এএন






























