১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরির ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান ঢাবি ছাত্রদল নেতার
Published : ১৪:০৪, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার পাশাপাশি এর যৌক্তিকতা জাতির সামনে স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের জসীমউদ্দিন হল শাখার আহ্বায়ক তানভীর বারী হামিম। তিনি মনে করেন, এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মনে পুরোনো দুর্নীতির সংস্কৃতির বিষয়ে অনাস্থা তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই মন্তব্য করেন।
দুর্নীতি ও মেধার মূল্যায়ন প্রসঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গি
ব্যক্তিগতভাবে কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনীতির ঘোর বিরোধী উল্লেখ করে তানভীর বারী হামিম বলেন, যার মেধা আছে, চাকরি তারই হওয়া উচিত এবং যোগ্য ব্যক্তিকেই যথাযথ পদে মূল্যায়ন করা দরকার। এ দেশের দীর্ঘদিনের সামাজিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মানুষ আজও অন্ধবিশ্বাসের বশে টাকার বিনিময়ে চাকরি খোঁজে। অনেক পরিচিত মানুষ ভিটেমাটি বিক্রি করেও ঘুষ দিয়ে চাকরি পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা এই অপসংস্কৃতির কারণে মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি এমনভাবে গেড়ে বসেছে যে, অধিকাংশ মানুষের মানসিকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে—টাকা ছাড়া চাকরি পাওয়া অসম্ভব।
বর্তমান প্রশাসনের ইতিবাচক পদক্ষেপ
এই পুরোনো ও ক্ষতিকর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে চাকরি নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিমত প্রকাশ করেন এই ছাত্রদল নেতা। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিগত ছয় মাসে চাকরির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতির তথ্য সামনে আসেনি, যা নিশ্চিতভাবেই অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এর জন্য প্রশাসন সম্পূর্ণ কৃতিত্বের দাবিদার।
ভাইভায় নম্বর বাড়ানো নিয়ে শঙ্কা ও আহ্বান
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর খবরে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তানভীর বারী হামিম। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরোনো অপসংস্কৃতির ভূত ঘাড়ে চেপে বসার শঙ্কা এবং সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের মনে অনাস্থা জাগা স্বাভাবিক।
তাই দায়িত্বশীল মহলের প্রতি তাঁর সুনির্দিষ্ট আহ্বান হলো—ভাইভাতে নম্বর বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের পেছনের যথাযথ বাস্তবতা ও যৌক্তিকতা জাতির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হোক, অথবা জনস্বার্থে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক।
চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি সান্ত্বনা ও আশাবাদ
পরিশেষে দেশের সব চাকরিপ্রার্থী তরুণ-তরুণীকে হতাশ না হওয়ার সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বর্তমান প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানান। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতির বিষদাঁত ক্রমান্বয়ে চিরতরে উৎপাটন করা হবে এবং মেধা ও যোগ্যতার মাপকাঠিতেই প্রতিটি যোগ্য প্রার্থীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।

































