২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক সংস্কার আনছে সরকার : মাহদী আমিন

২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক সংস্কার আনছে সরকার : মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১০:৫৩, ৩০ আগস্ট ২০২৬

জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম প্রতিযোগিতা বন্ধ করে মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের পুরো শিক্ষাক্রমে ব্যাপক সংস্কার আনা হবে। তবে এর আগেই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যক্রমে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি ও খেলাধুলাবিষয়ক নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সময়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি টেকসই ও যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম তৈরি করা সম্ভব হবে।

২০২৭ থেকেই যুক্ত হচ্ছে নতুন বিষয়
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

নতুন বিষয়গুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

‘কৃত্রিম জিপিএ-৫-এর বন্যা বন্ধ হয়েছে’
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আগের সময়ে পরিসংখ্যান ভালো দেখাতে কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়ানো হতো এবং পরীক্ষা না দিয়েও পাস করিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল। সরকার সেই পথ বন্ধ করেছে।

তিনি বলেন, এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত ফলাফল পেয়েছে।

অকৃতকার্যদের কারিগরি প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা
সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য কিংবা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নীতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, এসব তরুণকে রাষ্ট্রের বোঝা হিসেবে দেখা হবে না। তাদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রয়োজনে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’
বেকারত্ব কমাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।

এর মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা নিজেদের দক্ষতার তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী খুঁজে নিতে পারবে। ফলে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে।

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি
শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়াতে পর্যায়ক্রমে সব স্তরের শিক্ষকদের হাতে ট্যাবলেট দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মাহদী আমিন।

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গ্রাম ও শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৈষম্য কমাতে প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশনের মতো জাতীয় প্রতিযোগিতাও চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement