ইরানের পাঁচ তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা, পাল্টা ২০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান

ইরানের পাঁচ তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা, পাল্টা ২০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:৩৬, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার অভিযোগ তুলে ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

এর জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে ইরান। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পাঁচ ট্যাংকারে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত দুই দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার হামলার চেষ্টা করে। তবে জাহাজটি সফলভাবে হামলা এড়িয়ে যায় এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা বা কর্মী আহত হননি বলে দাবি করেছে তারা।

এরপর পাল্টা জবাবে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সেন্টকম।

হামলার শিকার ট্যাংকারগুলোর মধ্যে রয়েছে এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ ও এম/টি রিয়েস্কো। এসব ট্যাংকার ওমান উপসাগরে অবস্থান করছিল। এছাড়া খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি দেরিয়া নামের আরও একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সেন্টকমের দাবি, হামলার আগে ট্যাংকারগুলোর কর্মীদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর হামলা চালিয়ে জাহাজগুলো অচল করে দেওয়া হয়।

খার্গ দ্বীপে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত ইরানের
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খার্গ দ্বীপের কাছে ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইআরআইবির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর জাহাজের কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওমান উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে জাস্ক বন্দরের কাছেও আরেকটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

আইআরজিসিও জানিয়েছে, ইরানের ‘বেশ কয়েকটি’ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে।

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি
ট্যাংকারে হামলার পাল্টা জবাবে জর্ডানে অবস্থিত আল-আজরাক ঘাঁটিতে ‘তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার জন্য ব্যবহৃত একটি হ্যাঙ্গার এতে ধ্বংস হয়েছে।

এর আগে মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। ওই হামলায় জাহাজ দুটিতে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের এই বাহিনী।

তবে মার্কিন পক্ষ থেকে এসব ক্ষয়ক্ষতির দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কুয়েত ও বাহরাইনের ট্যাংকারেও হামলার হুমকি
এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে অবস্থানরত তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে সতর্ক করেছে আইআরজিসি। এসব জাহাজের কর্মীদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, বন্দর বা নোঙরে থাকা এসব তেলবাহী জাহাজ ভবিষ্যতে হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

২০ ক্ষেপণাস্ত্রের ১৮টি ধ্বংসের দাবি জর্ডানের
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে ১৮টি সফলভাবে শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও অন্যান্য ধাতব অংশ যেখানে পড়েছে, সেসব এলাকা নিরাপদ করতে বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে বলেও জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

‘ট্যাংকারে হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা’
এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে যেকোনো হামলার জবাবে এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রুবিওর
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের জাহাজে হামলা চালিয়ে যাবে ওয়াশিংটন।

কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান মার্কিন নৌজাহাজে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যতবার এমন হামলা করবে বা চেষ্টা করবে, ততবার একটি করে ইরানি ট্যাংকার হারাতে হবে।

বাড়ছে উপসাগরীয় উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত ছয় মাসে গড়ানোর মধ্যে নতুন করে মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছে দুই পক্ষ। একদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা, অন্যদিকে ইরানের বন্দর ও তেলবাহী জাহাজকে ঘিরে মার্কিন সামরিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এদিকে মঙ্গলবারের সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু সময়ের জন্য তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement