ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:৫৮, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের অবসান ঘটলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিজেদের সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএন-এর ছয়টি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিভিন্ন দপ্তরে এ বিষয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে আলোচনা চলছে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও মার্কিন সামরিক শক্তি
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা এবং বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং এক ডজনের বেশি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন হামলায় কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এসব সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা ও কাঠামোগত দুর্বলতা নতুন করে সামনে এসেছে।

সম্ভাব্য পরিবর্তন ও নতুন কৌশল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বছরের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সামগ্রিক কাঠামো পরিবর্তনের কয়েকটি সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে কাজ চলছে। এর মূল দিকগুলো হলো:

ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ থেকে বিরত থাকা: ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ কিছু ঘাঁটি নতুন করে পুনর্নির্মাণ না করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অবকাঠামো স্থানান্তর: কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।

স্থায়ী ঘাঁটির বিকল্প: স্থায়ীভাবে বড় পরিসরে সেনা মোতায়েন রাখার পরিবর্তে কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক সামরিক ও গোয়েন্দা সদস্য পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।

আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ
পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে এনে আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোর ওপর নিজেদের প্রতিরক্ষার মূল দায়িত্ব অর্পণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন। তবে এই পরিকল্পনাগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ বা চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

এদিকে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটিতে অদূর ভবিষ্যতে কর্মীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement