সাবিলা নূরকে ঘিরে প্রেমের অভিযোগ, সাত বছরের সম্পর্ক ভাঙার দাবি তিশার
Published : ২১:১৮, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকাই শোবিজে অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার চিত্রগ্রাহক আবদুল মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিশা নামের এক নারী। তাঁর দাবি, সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের কথিত প্রেমের সম্পর্কের কারণে ভেঙে গেছে তাঁদের দীর্ঘ সাত বছরের সম্পর্ক এবং বিয়ের পরিকল্পনা।
তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল। গত ১৫ মে বিয়ের তারিখও নির্ধারণ করা হয়। তবে নির্ধারিত দিনের কয়েক দিন আগে হঠাৎ করেই বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান আবদুল মামুন।
গণমাধ্যমকে তিশা বলেন, ‘যা শুনেছেন সব সত্য। সাবিলা নূরের কারণেই আমার দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম এবং বিয়ে ভেঙে গেছে।’
তাঁর দাবি, ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পর তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। দুই পরিবার থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ মামুন বিয়ে করতে চান না বলে জানান। পরে সাবিলা নূরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানতে পারেন বলে দাবি তিশার।
বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর অভিযোগ
তিশার অভিযোগ, বিয়ে না করার কারণ জানতে তিনি একাধিকবার আবদুল মামুনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরাও তাঁকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনো প্রচেষ্টাতেই মামুন রাজি হননি বলে দাবি তাঁর।
তিশা আরও বলেন, শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই সাবিলা নূর ও আবদুল মামুনের কথিত সম্পর্কের বিষয়ে জানেন। বিষয়টি জানার পর থেকে মামুনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সাত বছরের সম্পর্কের এমন পরিণতিতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলেও জানান।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিশা বলেন, ‘ওরা দুজন আমার সঙ্গে কাজটি ভালো করেনি। সাবিলা নূর আমাদের বিষয় সব জানতেন। কিন্তু সে মেয়ে হয়েও একটিবার আরেকটি মেয়ের কথা ভাবেনি। আমার বড় ক্ষতি করল।’
তিশার আরও দাবি, তাঁদের বিয়ের তারিখ আগেই নির্ধারণ করার কথা থাকলেও শাকিব খানের সঙ্গে কাজের সুযোগ থাকায় ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য বিয়ের পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনে বড় আঘাত হয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
তিশা জানান, পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবলেও তিনি তাতে সম্মতি দেননি। তবে বিয়ের ঠিক আগে কেন মামুন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছিলেন, সে বিষয়ে এখনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।
সাবিলা নূরের দাম্পত্য জীবন নিয়েও আলোচনা
অন্যদিকে, সাবিলা নূর ও তাঁর স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়েও সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৯ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। তবে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং তাঁরা আলাদা থাকছেন বলে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুজনের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।
এদিকে, ‘তাণ্ডব’ ও ‘রকস্টার’ সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে সাবিলা নূরের কাজের সূত্র ধরে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। তবে এসব আলোচনা কিংবা সাবিলার দাম্পত্য জীবনের সঙ্গে শাকিব খানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং ঘিরে অভিযোগ
তিশার দাবি, ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় সাবিলা নূর ও আবদুল মামুনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে সিনেমাটির পরিচালক আজমান রুশোর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। পরে গণমাধ্যমকে এক বার্তায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানান।
তবে তিশার অভিযোগের বিষয়ে সাবিলা নূর, তাঁর স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহের ও চিত্রগ্রাহক আবদুল মামুনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।































