৭আপ এক্সট্রা ফিজের বিরুদ্ধে মামলা, ১৬ নভেম্বর আদালতে হাজির হতে হবে সিমিন রহমানকে

৭আপ এক্সট্রা ফিজের বিরুদ্ধে মামলা, ১৬ নভেম্বর আদালতে হাজির হতে হবে সিমিন রহমানকে ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:৩৪, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

কোমল পানীয় ‘৭আপ ন্যাচারাল লেমন ফ্লেভার এক্সট্রা ফিজ’-এ নিম্নমানের উপাদান, নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি রাসায়নিক ব্যবহার এবং মোড়কজাতকরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলায় ট্রান্সকম বেভারেজেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সিমিন রহমানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর তাঁকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর খিলগাঁওয়ের ‘ব্রাদার্স কম্পিউটার্স অ্যান্ড কনফেকশনারি’ থেকে ২০০ মিলিলিটারের তিনটি ৭আপ এক্সট্রা ফিজের বোতল নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) নির্ধারিত BDS 1123:2022 মানদণ্ডের ছয়টি প্যারামিটারের মধ্যে তিনটিতে পানীয়টি উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

ডিএসসিসির নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ও প্রসিকিউটিং অফিসার মো. কামরুল হাসান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পানীয়টি উৎপাদন ও বাজারজাত করার সময় নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি কৃত্রিম রাসায়নিক ও কেমিক্যাল সুইটনার ব্যবহার করা হয়েছে।

পণ্যের লেবেলে ‘চিনি নেই, তবে নন-নিউট্রিটিভ সুইটনার আছে’ লেখা থাকলেও সতর্কতামূলক তথ্যের ফন্ট এত ছোট যে তা সহজে পড়া যায় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় এটিকে ‘মোড়কবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা, ২০১৭’ এবং ‘পণ্য মোড়কজাতকরণ বিধিমালা, ২০২১’-এর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনে পানীয়টিকে ‘মানসম্পন্ন নয়’ ও ‘নিরাপদ নয়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ধরনের পানীয়ের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট ব্যাচের (ব্যাচ নম্বর ৮৭৪) পণ্যসহ একই ধরনের ক্ষতিকর পানীয় বাজার ও দোকান থেকে প্রত্যাহার এবং বাজেয়াপ্তের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৬, ২৭, ৩২(ক), ৪১ ও ৪২ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনের ৫৮ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement