জন্মহার বাড়াতে কনডমে ১৩% কর চীনে
Published : ২৩:৫৫, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকার সম্প্রতি জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ করেছে। এর ফলে কনডমে ১৩ শতাংশ কর বসায় পণ্যের দাম স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে চীনের কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, দেশে বার্ষিক জন্মহার বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কনডমের ওপর ভ্যাট আরোপও সেই কৌশলের একটি অংশ। দাম বাড়লে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে কনডম কেনা কমাবে বলে তারা মনে করেন, আর এর প্রভাব জন্মহারে প্রতিফলিত হতে পারে।
তবে এই নীতি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বেইজিংভিত্তিক ইউওয়া পপুলেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক হি ইয়াফু। তার মতে, সরকারের এ পদক্ষেপ মূলত প্রতীকী, এবং বাস্তবে তেমন বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
একসময় বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল চীন। ১৯৮০ সালে দেশটি এক সন্তাননীতি কার্যকর করে এবং তা কঠোরভাবে পালন করে ২০১৫ সাল পর্যন্ত। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই নীতি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফলতা আনলেও নতুন সংকট হয়ে দেখা দেয় জন্মহারের ক্রমাগত পতন।
প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটিতে প্রতি বছর নবজাতকের সংখ্যা কমছে। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তার কারণে বাড়ছে বয়স্ক জনগোষ্ঠী। ফলস্বরূপ, কর্মক্ষম তরুণ মানুষের হার প্রতি বছরই নিম্নমুখী। জাতিসংঘের হিসাব বলছে, বর্তমানে চীনে বছরে গড়ে প্রায় ১৪০ কোটি শিশুর জন্ম হয়। এই হ্রাসমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২১০০ সালে বার্ষিক জন্মহার নেমে আসতে পারে ৮০ কোটিতে।
এমন পরিস্থিতিতে কনডমের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আসে যখন দেশটিতে দ্রুত বাড়ছে এইডস রোগীর সংখ্যা। চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষ, চাইনিজ সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে এইডস রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ০.৩৭। দুই দশক পর ২০২১ সালে একই অনুপাতে সংক্রমণ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৪১।
বিডি/এএন
































