মার্কিন-ইসরায়েলি ঘাঁটিতে ইরানের ৭৬ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
Published : ২১:৩২, ২৩ মার্চ ২০২৬
ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সোমবার (২৩ মার্চ) জানিয়েছে, তারা একযোগে মোট ৭৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘কিয়াম’ (তরল জ্বালানি) এবং ‘জুলফিকার’ (সলিড জ্বালানি) ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আল-ধাফরা, ভিক্টোরিয়া, পঞ্চম নৌবহর এবং কিং সুলতান নামের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের আশকেলন, তেল আবিব, হাইফা এবং গুশ দান অঞ্চলে সেনাবাহিনীর স্থাপনাগুলোর ওপর ‘খায়বার-শেকান’ ও ‘কিয়াম’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা অন্তত ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইতিবাচক আলোচনা এগোচ্ছে এবং আলোচনা সফল হলে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমেছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৭ ডলার কমে ৯৬ ডলারে নেমে আসে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও প্রতি ব্যারেল ১৩ ডলার কমে ৮৫.২৮ ডলারে নেমে যায়।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নতুন সংঘাতের আশঙ্কা এখনো থাকলেও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিডি/এএন


































