ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তা দিল সৌদি আরব

ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তা দিল সৌদি আরব ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৬:৩৭, ১৯ মার্চ ২০২৬

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াদ নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে রিয়াদকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, ইরানের এই চাপ প্রয়োগের কৌশল শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধেই কাজ করবে। রাজনৈতিক ও নৈতিক—উভয় দিক থেকেই এর পরিণতি নেতিবাচক হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। তাই প্রয়োজনে সামরিক জবাব দেওয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের দাবি, তাদের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় কাতার ও সৌদি আরবের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের নিক্ষেপ করা শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ হামলায় রিয়াদের সাধারণ মানুষ প্রথমবারের মতো বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান এবং মোবাইলে সতর্কবার্তা পান—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে তুলে ধরে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ শহরের দক্ষিণাঞ্চলে একটি তেল শোধনাগারের কাছে গিয়ে পড়ে।

এদিকে রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কাতার ও সিরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন। বৈঠক চলাকালীন আকাশে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য দেখা যায়, যা পরিস্থিতির তীব্রতা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

প্রিন্স ফয়সাল বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তিনি তেহরানকে অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করলেও বর্তমান সংঘাত সেই অগ্রগতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা এখনও কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে ইরান দ্রুত আগ্রাসন বন্ধ না করলে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ প্রায় থাকবে না।

তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং এর প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। সূত্র: রয়টার্স

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement