যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে ইরান এখন পর্যন্ত শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বয়ে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।
বিশেষ করে ইরানের তুলনামূলক স্বল্পমূল্যের ‘শাহেদ’ ড্রোনের স্যাচুরেশন অ্যাটাক ইতোমধ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই হামলার ধরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারাও।
এখন পর্যন্ত এই ড্রোন মোকাবিলার কার্যকর কোনো উপায় খুঁজে বের করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান তাদের বহুল আলোচিত এই ড্রোনের একটি নতুন সংস্করণের নকশা প্রকাশ করেছে।
নতুন নকশায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা ড্রোনটিকে শনাক্ত করা আগের তুলনায় আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগে যেখানে ড্রোনটির ইঞ্জিন পেছনের দিকে অবস্থান করত, সেখানে নতুন সংস্করণে প্রপেলার বা পাখাটি সামনে স্থাপন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে ড্রোনটির অ্যারোডাইনামিক দক্ষতা বা বায়ুপ্রবাহের কার্যক্ষমতা আরও উন্নত হতে পারে, যা দীর্ঘসময় উড্ডয়ন ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
এছাড়া আগের গ্যাসোলিনচালিত পিস্টন ইঞ্জিনের পরিবর্তে নতুন এই ড্রোনে ব্যবহার করা হয়েছে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন বা ইলেকট্রিক প্রোপালশন সিস্টেম। এর ফলে ড্রোনটির উড্ডয়নের সময় সৃষ্ট শব্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
শুধু তাই নয়, এই পরিবর্তনের কারণে ড্রোনটির থার্মাল ও রাডার সিগনেচারও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ তাপ শনাক্তকারী সেন্সর কিংবা রাডার ব্যবস্থায় এটিকে সহজে ধরা পড়বে না, যা এটিকে আরও কার্যকর ও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিনব্যাপী সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়ে যায়।
এর পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি অভিযান শুরু করে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়।
এই যৌথ অভিযানের প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কমান্ডারও নিহত হন। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।
গত ১৭ দিন ধরে চলতে থাকা এই হামলা-পাল্টা হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল কার্যত ভয়াবহ এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।


































