ঈদের নামাজ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির ক্ষোভ

ঈদের নামাজ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির ক্ষোভ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:১৭, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে যেতে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার দাবি, ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তাকে ওই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে বেসরকারি সংবাদমাধ্যম দৈনিক কালের কণ্ঠ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটির প্রথম পর্ব সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত হয় এবং আজ (২৪ ফেব্রুয়ারি) শেষ অংশ প্রকাশ করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাকে যেন বঙ্গভবনের ভেতরেই সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আদায় করে থাকেন এটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত রেওয়াজ। কিন্তু ড. ইউনূসের সরকারের সময় সেই রেওয়াজ পালনে বাধা সৃষ্টি করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, পরপর দুই ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য তাকে জাতীয় ঈদগাহে যেতে দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা সংক্রান্ত দপ্তরের মাধ্যমে তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, তিনি সেখানে নামাজে অংশ নিতে পারবেন না।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলো ঐতিহ্যগতভাবে বঙ্গভবনেই আয়োজিত হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী এসব দিবসে জাঁকজমকপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

তিনি জানান, এসব অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি উপস্থিত হননি। যদিও সংবিধান অনুযায়ী উপস্থিত থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবুও এটি সৌজন্যবোধের অংশ বলেই তিনি মনে করেন। অতীতে সরকারপ্রধানরা সাধারণত এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, প্রায় দেড় বছর পর দেশে আবারও নির্বাচিত সরকারের অধীনে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে চলতি মাসে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

এর মধ্য দিয়ে বিদায় নিয়েছে ড. মোহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্রপতি জানান, ওই দেড় বছরে সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি অনেকটাই আড়ালে ছিলেন এবং কার্যত সীমাবদ্ধ অবস্থায় সময় কাটাতে হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর তিনি এখন কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন—সাক্ষাৎকারে এমন ইঙ্গিতই উঠে এসেছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement