অবশেষে বিসিবির চাওয়া পূরণ করল আইসিসি
Published : ০২:২১, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না পারার আক্ষেপটা হয়তো দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াতে হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও সমর্থকদের। গত কয়েক দিন ধরে এই ইস্যু ঘিরে উত্তাল ছিল ক্রিকেটবিশ্ব, নানা নাটকীয়তায় গড়িয়েছে পরিস্থিতি।
বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় পাকিস্তান, আর শেষ পর্যন্ত দুই দিকের চাপ সামলেই বাংলাদেশের প্রায় সব দাবিই মেনে নিল আইসিসি।
গত পরশু লাহোরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অবশেষে জট খুলেছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, ভারতের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান। দীর্ঘদিন পর ভারতকে কিছুটা চাপে ফেলতে পেরে সন্তুষ্ট পাকিস্তান, অন্যদিকে বাংলাদেশের দাবি অনুযায়ী ভেন্যু পরিবর্তন না করায় ভারতের ‘ইগো’ও অক্ষুণ্ন থাকল।
তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পুরোপুরি শূন্য হাতে ফেরেনি। কোনো শাস্তি বা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে না তাদের। বরং আইসিসি দেবে বাংলাদেশের পাওনা অর্থ, বিশ্বকাপের লাভের অংশও মিলবে। পাশাপাশি ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে ক্রিকেটে ভারতের মতো শক্তিশালী পক্ষকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলতে পেরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—দু’দেশই নিজেদের নৈতিক বিজয় দেখছে। তবে আফসোসটা থেকেই গেল বর্তমান জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য—রাজনীতির বলি হয়ে তাঁদের জীবন থেকে হারিয়ে গেল একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। এই সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় পাকিস্তান। এমনকি দেশটির সরকার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণাও দেয়।
এতে বড় বিপাকে পড়ে আইসিসি, কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার বার্ষিক আয়ের প্রধান উৎস। বিভিন্ন গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, এই ম্যাচ না হলে প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। ফলে সমাধান খুঁজতে গত কয়েক দিন ধরেই ব্যস্ত ছিল আইসিসি।
এই প্রেক্ষাপটে গতকাল বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দুই বোর্ড প্রধানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয় আইসিসির প্রতিনিধির।
এরপর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি নিশ্চিত করে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা বলেন,
‘আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক। তবে এতে একটি মূল ক্রিকেট জাতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
বিসিবিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দেশে ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য ভবিষ্যৎ সুযোগ আরও শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইকোসিস্টেম আমাদের কাছে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত—যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার যোগ্য।’
পাকিস্তানকে ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনতেই নাকভি ও বুলবুলের সঙ্গে বৈঠক করেন ইমরান খাজা। এর আগে জিও টিভি জানিয়েছিল, তিনটি শর্ত পূরণ হলে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান। আইসিসির বিবৃতিতে এসব শর্তের উল্লেখ না থাকলেও বাংলাদেশের সব দাবি মেনে নেওয়ায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তা প্রায় নিশ্চিত।
আজ ভারতের বিপক্ষে খেলতে পিসিবিকে অনুরোধ করেন বুলবুল। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলাদেশের দাবিগুলো মেনে আইসিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। এতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার অবসান ঘটল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিডি/এএন
































