রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত ১০
Published : ১৫:২৯, ৫ অক্টোবর ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
গুরুতর আহত চার সাংবাদিক হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। তাঁদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মীকে দেশীয় অস্ত্রসহ জড়ো হতে দেখে সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় তাঁদের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীরা হামলায় ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমসহ কয়েকজনের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন বক্তব্যও রয়েছে। একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবিব ও রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের মধ্যে বিরোধের পর ঘটনাটি ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহসান হাবিবের অভিযোগ, রাকিবুল তাঁর মা ও বোনকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাঁকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান।
রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে আহসান হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের একটি অংশকে ‘গুপ্ত শিবির’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। এগুলো তাঁর নিজস্ব বক্তব্য; অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তাধীন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন। তাঁরা ঘটনার স্বাধীন তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


































