মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে প্রধান শুটারসহ তিনজন গ্রেপ্তার

মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে প্রধান শুটারসহ তিনজন গ্রেপ্তার ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:১৯, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি গুলি চালানো ‘প্রাইম শুটার’ জিনাত, ঘটনার সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী বিল্লালসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া তৃতীয় ব্যক্তি জিনাত ও বিল্লালের সহযোগী বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিপরীতে স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের আহ্ছানউল্লা টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে দুর্বৃত্তরা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সুফিয়ান বেপারি ওরফে মাসুদ (৫০) গুলিবিদ্ধ হন। তিনি কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২৫ মিনিট আগে মোটরসাইকেলে করে প্রধান দুই সন্দেহভাজন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কারওয়ান বাজারের স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের গলির মুখে আগে থেকেই তাদের এক সহযোগী অপেক্ষায় ছিল। মোটরসাইকেলটি তার কাছে রেখে দুজন গলির ভেতরের অন্ধকার স্থানে গিয়ে ওত পেতে থাকে। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পর মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি ফার্মগেটের দিকে চলে যায়।

পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে অন্তত চারজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দুজনকে গুলি চালানোর পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। একজনকে গলির ভেতরে এমনভাবে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেছে যে, প্রথমে তাকে সন্দেহ করা হয়নি। পরে অন্য একটি ফুটেজে দেখা যায়, সে বাকি তিনজনের সঙ্গে শলাপরামর্শ করছে। আরেকজনকে গলির মুখে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

মুছাব্বির হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও থানার সামনে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা। এ সময় তারা বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে তারা কারওয়ান বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে কর্মসূচি শেষ করেন।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা জানান, সিসি ক্যামেরার নতুন কিছু ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন চারজনের বেশ স্পষ্ট ছবি পাওয়া গেছে। এসব ফুটেজের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এখনো সন্দেহভাজনদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। হত্যার কারণও এখনো নিশ্চিত নয়। আধিপত্য বিস্তারসহ সব সম্ভাব্য দিক মাথায় রেখে তদন্ত চলছে।

তদন্ত সূত্র আরও জানায়, মুছাব্বিরকে গুলি করার আগে রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেল আরোহী শুটার ও তার সহযোগী স্টার হোটেলের পাশের গলিতে প্রবেশ করে। গুলি ছোড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের পালিয়ে যেতে দেখা যায়। এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত চারজনকে শনাক্ত করা হলেও, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। কিলিং মিশনে সরাসরি অংশগ্রহণকারী ও এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। মামলায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামী আগে থেকেই হত্যার হুমকিতে ছিলেন। বিভিন্ন সময় মুছাব্বির তাকে জানিয়েছিলেন, তার শত্রুর সংখ্যা বেড়ে গেছে এবং যেকোনো সময় তাকে হত্যা করা হতে পারে। তবে কারা এসব শত্রু, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট নাম বলেননি।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement