ঢাকা-সিলেট রুটে সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নে বড় উদ্যোগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা-সিলেট রুটে সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নে বড় উদ্যোগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:২৬, ৩ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঢাকা-সিলেট রুটে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার বড় উদ্যোগ নিয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবস্থা এতটাই নাজুক যে যাতায়াতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা থাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু জায়গায় জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। তবে এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রেল যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়ক সম্প্রসারণের ফলে যানবাহন ও যানজট বাড়ে এবং কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সরকার সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কম খরচে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সহজ করবে।

স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে যুক্তরাজ্যের National Health Service (এনএইচএস)-এর আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের বেশিরভাগই নারী।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে, যা ভবিষ্যতে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানা সম্প্রসারণ ও আইটি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু প্রকল্প গ্রহণ নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। প্লাস্টিক ও বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ শিশুকে ক্রীড়ার আওতায় আনা হবে, যেখান থেকে ভবিষ্যতের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি হবে।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতা চালু করেছে এবং ধাপে ধাপে অন্যান্য প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে মন্ত্রী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সুরমা নদীর দুই পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্প উদ্বোধন করেন এবং হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement