বর্তমান সরকার মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাসী : বাসস এমডি

বর্তমান সরকার মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাসী : বাসস এমডি বাসস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ।

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০১:৫৩, ১২ মে ২০২৬

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ বলেছেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম আড়াই মাসে সরকার এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, সাংবাদিকরা মুক্তভাবে সংবাদ প্রচার করবে। তবে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অবশ্যই পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে।

আজ ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাসস এমডি বলেন, সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও কোনো কোনো মালিকপক্ষ নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সংবাদে সেন্সরশিপ আরোপ করে থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর অযাচিত ও নগ্ন হস্তক্ষেপ চালিয়েছিল। ফলে অনেকেই নিজেদের মত প্রকাশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বেছে নিয়েছিল।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন সময়ের বাস্তবতা হলেও দায়বদ্ধতার অভাবে সেখানে অপতথ্য ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা গণমাধ্যমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব মোকাবিলায় সরকার, মালিকপক্ষ, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন প্রয়োজন।

কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, ইউরোপ-আমেরিকা কিংবা প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি খুব একটা সুখকর নয়। উন্নত দেশগুলোতেও সরকার বিভিন্নভাবে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তার মতে, সেই তুলনায় বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি অনেক উন্নত।

তিনি আরও বলেন, ফেনী সাংবাদিকতার জন্য একটি উর্বর ভূমি। এখানকার সাংবাদিকরা দেশের গণমাধ্যমকে সমৃদ্ধ করেছেন। শুধু সাংবাদিকতাই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, শিল্প ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ফেনীর মানুষের অবদান উজ্জ্বল। তিনি এই ধারাবাহিকতা নতুন প্রজন্মের ধরে রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশেই শতভাগ মুক্ত গণমাধ্যম নেই। নিরপেক্ষতা পুরোপুরি সম্ভব না হলেও সংবাদ লেখায় বস্তুনিষ্ঠতা এবং সম্পাদনায় দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সাংবাদিকদের পথ কখনো সহজ নয়, তাই সংগ্রাম ও দায়িত্ববোধ নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শাহাদাত হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন দিদারুল আলম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিপি মেজবাহ উদ্দিন খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য লিয়াকত আলী ভূঁইয়া এবং দৈনিক আমার কাগজের সম্পাদক ফজলুল হক ভূঁইয়া রানাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।
 

শেয়ার করুনঃ
Advertisement