ঢাকার কবরস্থানে সংকট বহুমুখী, শেষ ঠিকানা ঘিরে বাড়ছে অর্থের চাপ
Published : ১৮:২৬, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মানুষের জীবনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অনুভূতিগুলোর একটি হলো স্বজনের প্রতি ভালোবাসা। সেই স্বজন যখন প্রয়াত হন, তখন শোকের পাশাপাশি সামনে আসে তাঁর শেষ বিদায়ের প্রশ্ন। কোথায় দাফন করা হবে, কতদিন কবরটি সংরক্ষণ করা যাবে—এসব নিয়ে পরিবারের সদস্যদের নানা সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
ঢাকায় স্বজনকে দাফন করতে চান অনেকেই। কিন্তু নগরীর কবরস্থানে জায়গার সংকট এতটাই প্রকট যে, নির্দিষ্ট সময় পর একই স্থানে নতুন মরদেহ দাফন করার বাস্তবতা মেনে নিতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। আর যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তারা দীর্ঘ সময় কবর সংরক্ষণের জন্য লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করছেন।
রাজধানীর প্রায় তিন কোটি মানুষের বিপরীতে সরকারি কবরস্থান রয়েছে মাত্র ১৩টি। এসব কবরস্থানের মোট জমির পরিমাণ ২৫৩ একর এবং সম্মিলিত দাফন সক্ষমতা ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় রয়েছে ১৯২ একর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় ৬১ একর।
জনসংখ্যার তুলনায় কবরস্থানের এই অপ্রতুলতা শেষবিদায়ের ব্যবস্থাপনাকে ক্রমেই জটিল করে তুলছে। জায়গার সংকটের কারণে অনেক কবরস্থানেই পুরনো কবর পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও দুই বছর পর একই স্থানে নতুন মরদেহ দাফন করা হয়। আবার কোথাও স্বজনেরা কবরের চিহ্ন ধরে রাখতে নিয়মিত অর্থ ব্যয় করছেন।
অন্যদিকে, সামর্থ্যবানদের জন্য কোনো কোনো কবর ১৫ বা ২৫ বছর সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য গুনতে হচ্ছে লাখ থেকে কোটি টাকা। ফলে মৃত্যুর পরও অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে কবরের স্থায়িত্বের একটি পার্থক্য তৈরি হচ্ছে—এমন বাস্তবতা সামনে এসেছে।
সীমিত জায়গায় বাড়ছে চাপ
সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ১৩টি সরকারি কবরস্থানে মোট জমি ২৫৩ একর। সম্মিলিত দাফন সক্ষমতা ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৮ জন। বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় এই জমির পরিমাণ যে সীমিত, তা থেকেই সংকটের মাত্রা বোঝা যায়।
প্রতিদিন নগরীতে মানুষের মৃত্যু হলেও নতুন কবরের জমি একই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে পুরনো কবর পুনর্ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে।
এই বাস্তবতায় স্বজনদের শোকের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরেক ধরনের অনিশ্চয়তা—প্রিয় মানুষের কবরটি কতদিন থাকবে?
রাজধানীর বিভিন্ন কবরস্থানে সাধারণ কবরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জায়গা ব্যবহারের বিধান রয়েছে। সময় শেষ হলে পুরনো কবরের জায়গায় নতুন মরদেহ দাফন করা হয়।
বিশেষ করে বনানী কবরস্থানে জায়গার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। সেখানে ৯ হাজারের বেশি কবর রয়েছে এবং নতুন দাফনের জায়গা সংকুচিত হয়ে এসেছে। ফলে সাধারণ কবর দুই বছর পর পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে।
একটি কবরের সঙ্গে শুধু একজন মৃত মানুষের স্মৃতি নয়, জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের ইতিহাস, সম্পর্ক ও আবেগ। কিন্তু জায়গার সংকট সেই স্মৃতিকে দীর্ঘদিন ধরে রাখার সুযোগ সীমিত করছে।
দীর্ঘমেয়াদি কবর সংরক্ষণে লাখ থেকে কোটি টাকা
অর্থ থাকলে অবশ্য দীর্ঘ সময়ের জন্য কবর সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। ডিএনসিসির কবরস্থান নীতিমালা অনুযায়ী, বনানী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণে দিতে হয় ১ কোটি টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য দেড় কোটি টাকা।
উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে একই মেয়াদের জন্য ফি যথাক্রমে ৭৫ লাখ ও ১ কোটি টাকা। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে ১৫ বছরের জন্য ৫০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ৭৫ লাখ টাকা। উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরে ৩০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা।
মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য ২০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ৩০ লাখ টাকা। রায়েরবাজার বধ্যভূমিসংলগ্ন কবরস্থানে একই মেয়াদের জন্য দিতে হয় ১০ লাখ ও ১৫ লাখ টাকা।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, বাস্তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফির চেয়ে মোট ব্যয় আরও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বনানী কবরস্থানে ২৫ বছরের জন্য একটি কবর সংরক্ষণে মোট ব্যয় সাড়ে চার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
ফলে প্রিয়জনের কবর দীর্ঘ সময় ধরে রাখার ইচ্ছা থাকলেও তা সবার জন্য সমানভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নয়।
দাফন ও কবর সংরক্ষণ ঘিরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ
কবরস্থানের জায়গা সংকটের পাশাপাশি দাফন ও কবর সংরক্ষণকে ঘিরে বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম মারা গেলে তাঁকে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরিবারের এক স্বজনের অভিযোগ অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দাফন ফি ছিল ১ হাজার টাকা। কিন্তু দাফন সম্পন্ন করতে তাঁদের মোটামুটি ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
এ ছাড়া কাঠের নামফলকের জন্য ৩০০ টাকা এবং কবর সাজানো ও সাময়িক সংরক্ষণের নামে আরও ১ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ওই স্বজন। এরপর কবরটি অক্ষত রাখার জন্য মাসে ৫০০ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়।
পরিবারটির আশঙ্কা ছিল, মাসিক টাকা দেওয়া বন্ধ হলে কবরের মাটি সমান করে সেখানে অন্য মরদেহ দাফন করা হতে পারে।
অর্থাৎ দাফনের পরও স্বজনদের আর্থিক দায় শেষ হচ্ছে না—কবরের চিহ্ন ধরে রাখতেও নিয়মিত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে।
অনানুষ্ঠানিক কর্মীদের অর্থ নেওয়ার অভিযোগ
কবরস্থানগুলোতে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও খাটোলি থাকলেও কোনো কোনো কবরস্থানে এর বাইরে অনানুষ্ঠানিক কর্মীদের সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের ‘সহায়ক কর্মী’ পরিচয় দিয়ে এসব ব্যক্তি দাফন, কবর সাজানো, বাঁশের বেড়া দেওয়া, ঘাস লাগানো, পানি দেওয়া ও নিয়মিত পরিচর্যার কাজ করেন।
বাঁশের বেড়া দিতে ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা, কবর সাজানো বা ঘাস লাগাতে প্রায় ১ হাজার টাকা এবং নিয়মিত পানি দেওয়া ও দেখভালের জন্য মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এসব অর্থ নেওয়ার সঙ্গে সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রায়েরবাজার কবরস্থানে দীর্ঘদিন কাজ করা এক কর্মী স্বজনদের কাছ থেকে এ ধরনের অর্থ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এ আয়ের একটি অংশ সিটি করপোরেশনের অসাধু কর্মীদের কাছেও যায়। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ডিএনসিসির ‘কবরস্থানগুলোর নীতিমালা-২০২২’ অনুযায়ী, সাধারণ এলাকার কবরের ওপর বাঁশ, ইট, লোহার গ্রিল বা অন্য কোনো উপায়ে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি কিংবা বেড়া দেওয়ার সুযোগ নেই।
অথচ বাস্তবে কবর ঘিরে বাঁশের বেড়া, সাজসজ্জা ও পরিচর্যার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠছে—নীতিমালায় অনুমোদন না থাকলে এসব কার্যক্রম কীভাবে চলছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত?
একই কবরে একাধিক দাফল
জায়গার সংকটের কারণে সংরক্ষিত কবরেও পরিবারের একাধিক সদস্যকে দাফনের নজির রয়েছে। কোনো কোনো কবরে সাতজন পর্যন্ত দাফন করা হয়েছে।
তবে পুনর্দাফনের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। নীতিমালা অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির ছেলে-মেয়ে, স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা এবং ভাই-বোনের মধ্যে এ সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে।
এ ব্যবস্থাও রাজধানীর কবরস্থানগুলোতে জায়গার সংকটের গভীরতা তুলে ধরে।
কয়েক দশকে বেড়েছে কবর সংরক্ষণের ব্যয়
পুরনো নথির সঙ্গে বর্তমান চিত্র তুলনা করলে কবরের জায়গা ও সংরক্ষণ ব্যয়ের পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে বনানী ও উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে স্থায়ীভাবে কবরের জায়গা কিনতে খরচ হতো ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে জায়গা পাওয়া যেত ২৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকায়।
২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী কবরের জায়গা কেনা বন্ধ রাখা হয়। এরপর ২০০৮ সাল থেকে মেয়াদভিত্তিক কবর সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু হয়।
২০২৩ সালে সংরক্ষণ ফি বাড়ানোর আগে বনানীতে ১৫ বছরের জন্য সর্বোচ্চ ফি ছিল ২৪ লাখ টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য ৪৫ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
ডিএনসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান বলেছেন, সাধারণভাবে কবর দেওয়ার খরচ বাড়ানো হয়নি। দীর্ঘমেয়াদে কবর সংরক্ষণে উচ্চ ফি নির্ধারণের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে সংরক্ষণে নিরুৎসাহিত করা, যাতে সবাই কবর সংরক্ষণ করতে চাইলে ঢাকায় কবরের জায়গার সংকট আরও বাড়ে।
অর্থাৎ সিটি করপোরেশনের ব্যাখ্যায়, কবরস্থানের জায়গা সংকট দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ সীমিত রাখার অন্যতম কারণ।
সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন
ঢাকার কবরস্থান ব্যবস্থাপনার বড় প্রশ্ন হলো—একদিকে জায়গার সংকট, অন্যদিকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের সুযোগ; এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য কীভাবে একটি স্বচ্ছ ও মানবিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়?
একজন নিম্ন বা মধ্যম আয়ের মানুষ প্রিয়জনের কবর কয়েক বছর ধরে রাখতে মাসে কয়েকশ টাকা ব্যয় করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে সামর্থ্যবান কেউ একই কবর ১৫ বা ২৫ বছরের জন্য লাখ কিংবা কোটি টাকা ব্যয় করে সংরক্ষণ করতে পারছেন।
উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা আবু রায়হানের অভিজ্ঞতাও এ বাস্তবতার একটি উদাহরণ। তাঁর খালু আব্দুল আলী মারা যাওয়ার পর ঢাকায় দাফনের ইচ্ছা থাকলেও কবর সংরক্ষণের বিপুল ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে কুষ্টিয়ায় গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
রাজধানীতে কবরস্থানের জমি ২৫৩ একর, আর জনসংখ্যা প্রায় তিন কোটি—এই বৈপরীত্যই সংকটের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন নতুন মরদেহের জন্য জায়গা প্রয়োজন, কিন্তু নতুন কবরস্থানের জমি সেই অনুপাতে বাড়ছে না।
ফলে পুরনো কবর পুনর্ব্যবহার, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণে উচ্চ ফি এবং কবর পরিচর্যা, বেড়া, নামফলকসহ বিভিন্ন কাজের নামে অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে কবরস্থান ব্যবস্থাপনা একটি বহুমাত্রিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
ঢাকার মতো দ্রুত সম্প্রসারিত মহানগরে কবরস্থানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। জনসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন কবরস্থান স্থাপন, বিদ্যমান কবরস্থানগুলোর আধুনিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দাফন ও সংরক্ষণ ফি সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে কবরস্থানে অননুমোদিত অর্থ আদায় বন্ধে কার্যকর নজরদারি এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
কবর মানুষের জীবনের শেষ ঠিকানা। দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের সুযোগ থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য যেন প্রিয়জনের কবরটুকু ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে না পড়ে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
রাজধানীর ১৩টি সরকারি কবরস্থানের ২৫৩ একর জমি দিয়ে প্রায় তিন কোটি মানুষের শেষ ঠিকানার চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়—এ বাস্তবতা সামনে রেখেই প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি, স্বচ্ছ ও মানবিক কবরস্থান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা।































