চট্টগ্রামে পুলিশের বিশেষ অভিযান, ৪৪৫ জন আটক
Published : ১৬:৩৭, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানা এলাকায় একযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে মোট ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ভবন ও নির্জন স্থানসহ কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে মনে হওয়া কিশোরদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি থানা এলাকা থেকে ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় আনা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মাদক ও অন্যান্য অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১৫২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযান শেষে অভিভাবকদের থানায় ডেকে সন্তানদের বিষয়ে আরও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সন্তান কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ফিরছে কি না—এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখার কথা বলা হয়। পাশাপাশি পড়াশোনা, বন্ধুবান্ধব, চলাফেরা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়েও নজরদারি করতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, সন্ধ্যার পর কিশোরদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান করতে দেওয়া উচিত নয়। নির্জন স্থান, পরিত্যক্ত ভবন, মাঠ বা অপরাধপ্রবণ এলাকায় কিশোরদের আড্ডা, মাদক সেবন, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড, মোবাইল গেমিং কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক বা সন্দেহজনক কাজের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও মেলামেশার বিষয়ে খোঁজ রাখার আহ্বান জানান। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না বলেও জানান তিনি।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।


































