ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপন আটকে আছে জরুরি পরীক্ষায়, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান সাংবাদিক জুয়েল
Published : ১৯:৫৯, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
বড় ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও প্রয়োজনীয় ‘ডিটিপিএ রেনোগ্রাম উইথ স্প্লিট ফাংশন অ্যান্ড জিএফআর’ পরীক্ষা করাতে পারছেন না সাংবাদিক নূরে আলম সিদ্দিকী জুয়েল। দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে খোঁজ করেও পরীক্ষাটি করানোর নির্দিষ্ট ব্যবস্থা খুঁজে পাননি তিনি। এদিকে সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিসসহ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হচ্ছে পরিবারকে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি পরীক্ষাটির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা জানান জুয়েল। তাঁর বড় ভাই মো. মাসুদুর রহমান যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মুন্সিখানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডার।
জুয়েল জানান, বড় ভাইয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি হিসেবে চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। মা কিডনি দাতা হতে সম্মত হয়েছেন। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ক্রস-ম্যাচসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করানো হলেও শেষ পর্যায়ে এসে একটি বিশেষ পরীক্ষার অভাবে পুরো চিকিৎসাপ্রক্রিয়া আটকে রয়েছে।
ভিডিও বার্তায় পরীক্ষাটির নাম উল্লেখ করে জুয়েল বলেন, ‘ডিটিপিএ রেনোগ্রাম উইথ স্প্লিট ফাংশন অ্যান্ড জিএফআর’। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কিডনি দাতার কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় এ পরীক্ষাটি করানোর ব্যবস্থা খুঁজে পাচ্ছেন না তাঁরা। জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা নিয়ে খোঁজ করেও পরীক্ষাটি কোথায় এবং কবে করানো সম্ভব, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাননি।
জুয়েল বলেন, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে তাঁর পরিবার কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বড় ভাইয়ের চিকিৎসায় নিয়মিত ডায়ালাইসিস ও ওষুধের ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের সপ্তাহে দুইটা করে ডায়ালিসিস করতে হচ্ছে। সঙ্গে ওষুধ তো চলছেই একাধারে। তো সেক্ষেত্রে আমরা যদি এই টেস্টটা করাতে পারতাম, তাহলে হয়তোবা আমাদের কাজটা আরও সহজ হয়ে যেত।”
পরীক্ষাটি বিদেশে পাঠিয়ে করানোর সুযোগও নেই বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, এ পরীক্ষার জন্য কিডনি দাতাকে সরাসরি উপস্থিত থাকতে হয়। ফলে শুধু রক্ত বা প্রস্রাবের নমুনা বিদেশে পাঠিয়ে পরীক্ষা করানোর বিকল্প কার্যকর হচ্ছে না।
জুয়েল আরও জানান, গত সপ্তাহে পূজার ছুটির আগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও গিয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেও পরীক্ষাটি করানোর বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাননি। একই পরীক্ষার জন্য অপেক্ষায় থাকা আট থেকে নয় বছর বয়সী আরেকটি শিশুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা না হওয়ায় ওই শিশুটির চিকিৎসাও এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না।
নিজের পরিবারের পাশাপাশি একই সমস্যায় থাকা অন্য রোগীদের কথা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষাটির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন জুয়েল। তাঁর মতে, দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য সবার নেই। তাই দেশের ভেতরেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে জুয়েল বলেন, “আমার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ থাকবে, যেহেতু টেস্টটা খুবই জরুরি, সেক্ষেত্রে দেখুন অনেক মানুষই।”
পরীক্ষাটি কবে করানো সম্ভব হবে, তা অনিশ্চিত থাকায় পরিবারটি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে তাঁর পরিবারসহ একই সমস্যায় থাকা অন্য রোগীরাও উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন জুয়েল।
ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “অনিশ্চয়তার মধ্যে এগিয়ে যাওয়া। শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা। সোনার বাংলা শুধু বইয়ে না, বাস্তবেও হয়ে ওঠ।”
এর আগে বড় ভাই মো. মাসুদুর রহমানের চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে আলোচনায় এসেছিলেন সাংবাদিক জুয়েল। মাসুদুর রহমান স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মী। জটিল কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা না হওয়ায় চিকিৎসা এগিয়ে নিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। দাতা হিসেবে জুয়েলের মা প্রস্তুত থাকলেও তাঁর কিডনির কার্যক্ষমতা ও বিভাজিত কার্যকারিতা মূল্যায়নের পরীক্ষাটি এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।






























