হাজতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, প্রত্যাহার ২ পুলিশ সদস্য
Published : ১৭:৪৬, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার হাজতে থাকা অবস্থায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা শাহ তপুর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী ও কনস্টেবল আফসানা মিমিকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উমরপুর গ্রাম থেকে শাহ তপুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের শাহ ফিরোজ মিয়ার ছেলে। পরে একই গ্রামের শাহ শুকুর আলীর ছেলে শাহ জুয়েলকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আসামি হিসেবে শাহ তপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। নবীগঞ্জ থানার এসআই আসিফের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উমরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহ তপু থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তার সহযোগী শাহ জুয়েল কৌশলে একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে শাহ তপুকে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এরপর অভিযান চালিয়ে ভিডিও ধারণকারী শাহ জুয়েলকে আটক করে পুলিশ। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
থানার হাজতের মতো নিয়ন্ত্রিত স্থানে কীভাবে ভিডিও ধারণ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভিডিও ধারণের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা কোথায় ছিলেন এবং হাজতের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বলেন, থানার হাজতখানার মতো স্পর্শকাতর স্থানে অবৈধভাবে ভিডিও ধারণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনায় শাহ জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী ও কনস্টেবল আফসানা মিমিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে।































