ধামরাইয়ে গ্যারেজে ডাকাতি: দেড় মাস পর গ্রেপ্তার ৪
Published : ১৭:৩১, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকার ধামরাইয়ে অটোরিকশার গ্যারেজে ডাকাতির ঘটনায় প্রায় দেড় মাস পর চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া তিনটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি ছয় চাকার পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের ছোট কালামপুর এলাকায় বিল্লাল হোসেনের অটোরিকশার গ্যারেজে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। কালো মুখোশ পরা ৮ থেকে ৯ জনের একটি সশস্ত্র দল গ্যারেজে ঢুকে মালিকের বড় ভাই মুজিবর রহমানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চারটি ইজিবাইক, বিভিন্ন ইজিবাইক থেকে খুলে নেওয়া ২৭টি ব্যাটারি, সিসি ক্যামেরার ডিভিআর বক্স ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের মোট মূল্য ছিল ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা। এ ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর ধামরাই থানায় ডাকাতির মামলা হয়।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম কাওছার সুলতান। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে তদন্ত চালানো হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২৩ অক্টোবর ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কদমতলী খালপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেল (৩০) ও ইমাম হোসেন শাওনকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ওই এলাকা থেকে লুট হওয়া তিনটি তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অটোরিকশাগুলোর আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে মো. সবুজ (২৯) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সোনারগাঁ থানার কাচপুর খাসপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাবিবুর রহমান ওরফে রনক ওরফে রনিকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ন-১৩-৬১৫৮ নম্বরের একটি পুরোনো ছয় চাকার পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়। গাড়িটির আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ লাখ টাকা।
ধামরাই থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তে লুণ্ঠিত মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।




























