রূপপুরে পৌঁছাল রাশিয়ার ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান, নভেম্বরে গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার লক্ষ্য
Published : ১১:৩৮, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
রাশিয়া থেকে আমদানি করা পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান পৌঁছেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনটি বিশেষায়িত লরিতে করে জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান।
এই চালানসহ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ইউরেনিয়ামের একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য তিনটি—সব মিলিয়ে চারটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাল।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টি অতিরিক্ত ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনা হবে। এভাবে মোট নয়টি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) চেয়ারম্যান প্রথম ইউনিটে এ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেন।
স্টেজ-সি পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টারবাইন-জেনারেটর, পরিচালন পদ্ধতি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। এসব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে প্রথম ইউনিটের জেনারেটর জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সিনক্রোনাইজেশন’।
পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম এগোলে আগামী নভেম্বর মাসে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
































