আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ অন্তত ১৩টি পোশাক কারখানা
Published : ১৪:১৯, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও পথচারী আহত হয়েছেন। বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের জেরে শিল্পাঞ্চলের অন্তত ১৩টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ কারখানা বন্ধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার পর থেকে আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার, নয়াপাড়া ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কাজ বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এ সময় কন্টিনেন্টাল, এআর জিন্স ও সিডব্লিউএসহ কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে এআর জিন্স ও কন্টিনেন্টাল কারখানার বিভিন্ন স্থানের কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় এআর জিন্সসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।
পরে দুপুর থেকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় মহাসড়ক ও শিল্পাঞ্চলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও পথচারী আহত হয়েছেন। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ও মুখোমুখি অবস্থান বিরাজ করছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের জেরে ওই এলাকার অন্তত ১৩টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে নিউ এইজ, নীট এশিয়া, স্টার্লিং ক্রিয়েশন, কন্টিনেন্টাল ও এআর জিন্স উল্লেখযোগ্য। তবে এ বিষয়ে কারখানাগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাঁর কাছে প্রায় ছয়টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণার তথ্য রয়েছে।
বর্তমানে শিল্পাঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
































