টিনের চালাঘর পেরিয়ে আধুনিক ভবনের পথে কুড়িগ্রামের ভাওয়াইয়া পরিষদ

টিনের চালাঘর পেরিয়ে আধুনিক ভবনের পথে কুড়িগ্রামের ভাওয়াইয়া পরিষদ

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০১:৪৮, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ভাওয়াইয়া গানের দীর্ঘ ইতিহাস ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন মাইলফলকের পথে এগিয়ে যাচ্ছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ। দীর্ঘদিনের টিনের চালাঘর ছেড়ে এবার সংগঠনটির জন্য নির্মিত হচ্ছে আধুনিক বহুতল ভবন। প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ ভবন ভাওয়াইয়া সংগীতচর্চা ও শিল্পী তৈরির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৯৩ সালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ভাওয়াইয়া পরিষদ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে একটি সাধারণ টিনের চালাঘরেই চলেছে ভাওয়াইয়া গানের চর্চা ও সাধনা। সংগঠনটির দাবি, এই সাধারণ ঘর থেকেই দেশ-বিদেশে পরিচিতি পাওয়া প্রায় ৩ হাজার ভাওয়াইয়া শিল্পী তৈরি হয়েছেন।

দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটির জন্য স্থায়ী ও আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ এ উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য অনুদান দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অনুদান ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় শুক্রবার দুপুরে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের পাশে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা। স্থানীয় সমাজসেবী গেলাপ হোসেনের দান করা ৫ শতক জমিতে ভবনটি নির্মিত হচ্ছে।

ভাওয়াইয়া পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ভাওয়াইয়া একাডেমির পরিচালক ভুপতি ভূষণ বর্মা। বশীর আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী, ভাওয়াইয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাজেন্দ্রনাথ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশিদ লাল, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গীতিকার তৌহিদুর রহমান, কসিম উদ্দিন পরিষদের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মমিন এবং ভূমিদাতা গেলাপ উদ্দিনের ছেলে এনামুর রহমানসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি খন্দকার একরামুল হক সম্রাট এবং নিউজ ২৪-এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি হুমায়ুন কবীর সূর্য।

বক্তারা বলেন, আধুনিক বহুতল ভবনটি নির্মিত হলে কুড়িগ্রামে ভাওয়াইয়া সংগীতচর্চা আরও বেগবান হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা উন্নত পরিবেশে সংগীতচর্চার সুযোগ পাবেন এবং ভাওয়াইয়া গানের ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠানটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement