যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:৫২, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রেহানাকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. এরশাদ আলম (জর্জ) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান ভোলার চরফ্যাশন থানার পূর্ব মাদ্রাজ খাঁ বাড়ির মো. শামসুল ইসলাম ও রোসনা বেগমের ছেলে। তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। রায় ঘোষণার আগে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ঘটনার প্রায় ১১ বছর আগে শরিয়ত অনুযায়ী রেহানার সঙ্গে মিজানের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে রেহানাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন মিজান। রেহানার পরিবার বিভিন্ন সময়ে তাকে আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার এবং বাড়ি নির্মাণের জন্য টিনের ঘরও তৈরি করে দেয়।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২০ দিন আগে মিজান আবারও রেহানার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। পরে রেহানার ভাই বিকাশের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা পাঠান। তবে বাকি টাকা না পেয়ে রেহানাকে আবারও মারধর করা হয়।

একপর্যায়ে ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সকাল ৭টার আগে যেকোনো সময় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকার ভাড়া বাসায় রেহানাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন মিজান—মামলার এজাহারে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরদিন ২৬ জুলাই রেহানার বড় ভাই মো. আব্বাস দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ মিজানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্কাস মিয়া আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে আদালত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement