টঙ্গীর মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ১৭ লাখ টাকা লুট নিয়েও প্রশ্ন

টঙ্গীর মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ১৭ লাখ টাকা লুট নিয়েও প্রশ্ন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:৩৫, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের টঙ্গীর ক্বারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং ১৭ লাখ টাকা লুটের দাবি ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। শিশুটির আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে সিঁড়িতে। মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সিঁড়িতে কোনো ক্যামেরা নেই। পুলিশ জানিয়েছে, যৌন হয়রানির ঘটনার সত্যতা পেয়েছে তারা। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মাদ্রাসাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমাস হোসেনের দাবি, তাঁর ড্রয়ার থেকে ১৭ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। শুক্রবার স্টার নিউজকে তিনি জানান, জমি কেনার জন্য ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ব্যক্তিগতভাবে সেখানে রেখেছিলেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও তিনি টাকা লুটের অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে আলমাস হোসেন বলেন, “এখানে ভাঙচুর করেছে, লুটপাট হয়েছে। এখানে আমার জমি কেনা ১৭ লাখ টাকা ছিল।”

তবে মাদ্রাসার কক্ষের বাইরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় সামনের পুরো অংশ দেখা গেলেও ঘটনার তিন দিন পর পর্যন্ত ব্যাগ নিয়ে কাউকে বের হতে দেখা যায়নি। ফলে টাকা নিয়ে কে বের হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো দৃশ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারী কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি। একই সঙ্গে কোন ব্যাংক থেকে টাকা তোলা হয়েছিল, সে প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

ব্যাংকের নাম জানতে চাইলে মাদ্রাসার চেয়ারম্যান জানান, তাঁরা প্রমাণসহ ব্যাংকের নাম জানাবেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রমাণসহ আপনাদের ব্যাংকের নামও দেব।”

তবে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার তথ্য নিয়ে সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি মামলার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলাটি মিথ্যা ও বানোয়াট। এ বিষয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, মাদ্রাসায় ভাঙচুরের প্রমাণ পাওয়া গেলেও ১৭ লাখ টাকা লুটের কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ কর্মকর্তারাও সিঁড়ির কোনো অংশে সিসিটিভি ক্যামেরা পাননি।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, “আমরা তদন্ত করছি এবং আরও অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন রয়েছে। এটা আমরা সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ করার পর বলতে পারব।”

তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বিস্তারিত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement